ভিডিও শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫৫ পিএম

দশকের পর দশক উচ্ছেদে ব্যর্থ প্রশাসন

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের কোটি টাকার সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল

ছবি: দৈনিক করতোয়া, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের কোটি টাকার সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল

শহর প্রতিনিধি: বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৬ শতাংশ মূল্যবান সম্পত্তি দীর্ঘকাল ধরে বেদখল হয়ে থাকলেও তা উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। স্থানীয় প্রভাবশালীরা তথাকথিত ভূমিহীনদের আড়ালে রেখে বহুমূল্য এই সরকারি সম্পত্তি নিজেদের দখলে রেখেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মারকাজ মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের সামনের রাস্তার উল্টো দিকে, ২০০ গজ ভেতরে সূত্রাপুর কসাইপাড়া এলাকায় ৮১ নম্বর চকবৃন্দাবন মৌজায় এই জমি অবস্থিত। একসময় সেখানে পৌরসভার মেশিন হাউজ বা পাম্প হাউজ ছিল। বিগত পৌর পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা বেশ কয়েকবার উদ্ধারের উদ্যোগ নিলেও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে তা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে সেখানে কয়েকটি কাঁচা-পাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে চারটি পরিবার বসবাস করছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী এই দখলকৃত জমিতে পাকা ও টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন। খোদ নিজের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও অনেকে সরকারি এই জমিতে আলাদা গুদামঘর বানিয়েছেন। এছাড়া আজিজ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তিও ওই টিনশেড ঘরে বসবাস করছেন। অথচ মালগ্রাম এলাকায় তার নিজস্ব বাড়ি রয়েছে এবং সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা থাকেন।

একসময়ে ভূমিহীন কালিয়া ও তার স্ত্রী ওই জমিতে বসবাস করতেন। তাদের মৃত্যুর পর বর্তমানে উত্তরাধিকারসূত্রে মেয়ে অবিরন সেখানে থাকছেন। এছাড়া ‘মায়ার মা’ ও ‘শহিদুলের মা’ হিসেবে পরিচিত আরও দুটি পরিবার সিটি কর্পোরেশনের এই জমিতে বসবাস করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলকৃত ওই ঘরগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদকের অবাধ বিচরণ গড়ে উঠেছে। মাদকসেবীরা প্রায়ই সেখানে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে এলাকাবাসীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কথা ভেবে অসহায় এলাকাবাসী মুখ বুজে এসব সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই অবৈধ দখলের পেছনে মদদ জুগিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রাপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইরুল ইসলাম বলেন, “পৌরসভা থাকাকালে এই জমি দখলমুক্ত করে খেলার মাঠ, শিশু পার্ক কিংবা কোনো সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা পরে থমকে যায়। আমরা চাই, দ্রুত জায়গাটি দখলমুক্ত করে এলাকার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রকৃত ভূমিহীনদের মানবিক দিক বিবেচনা করে পুনর্বাসন করা হোক।”

আরও পড়ুন

বগুড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এরশাদুল বারী এরশাদ জানান, দায়িত্বে থাকাকালীন মেয়রের নির্দেশে অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং উচ্ছেদের প্রাথমিক প্রস্তুতিও ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারেরকালীন পৌর পরিষদ ভেঙে দেওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সে সময়কার সার্ভে অনুযায়ী আনুমানিক ৬ শতাংশ জায়গা বেদখল রয়েছে। এ বিষয়ে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত মাপজোগ করে জমিটি দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ’বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের এক ইঞ্চি জমিও অবৈধভাবে দখল করে রাখতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অচিরেই এই সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে। উদ্ধারকৃত জমিতে শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি মিনি পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের কোটি টাকার সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল

১

গাজীপুরে গার্মেন্টসের আগুন নিয়ন্ত্রণে

২

বগুড়ার ধুনটে রিমান্ড শেষে কারাগারে  আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৮ সদস্য

৩

বগুড়ার গাবতলীতে কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় পুরস্কার বিতরণ 

৪

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

৫

বগুড়ার সোনাতলার খরস্রোতা সুখদহ নদী আজ মরা খালে পরিণত

৬