বগুড়ায় হাম ও ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মৃত্যু ৩২ জনের, হাসপাতালে ভর্তি ৮৬
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় বেড়েছে হাম ও ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। জেলার হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে এই দুই রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৮৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে হামের ১৯ জন এবং ডেঙ্গুর ৬৭ রোগী রয়েছেন। দু’টি রোগ মিলে জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৩২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৩১ জন হামের এবং একজন ডেঙ্গু রোগী। বগুড়া স্বাস্থ্য বিভাগ এই তথ্যগুলো জানিয়েছে।
বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ২৪৭ জন হাম ও সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ২২৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে পাঁচজন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং দুইজন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এই নতুন আক্রান্ত ও সুস্থ হওয়া রোগীদের সবাই টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে হামে আক্রান্ত ১৯ রোগীর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতজন, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে তিনজন এবং টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি রয়েছেন।
বগুড়ায় এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ১ হাজার ১৮২ জন হামের রোগীর মধ্যে ৯৯৩ জন বগুড়া জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট ২১৬ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত বা পজিটিভ পাওয়া গেছে। ল্যাব পজিটিভদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন বগুড়া মহানগর এলাকার।
এছাড়া শেরপুরের ৩৪, ধুনটে ২৫, বগুড়া সদরে ২৪, শিবগঞ্জের ২২, শাহজাহানপুরের ২০, গাবতলীর ১৬, সোনাতলার ১২, সারিয়াকান্দিতে ১০, কাহালুতে ৭, আদমদিঘিতে তিন এবং দুপচাঁচিয়ায় দুইজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। হামের উপসর্গ ও ল্যাব নিশ্চিতকরণসহ এ পর্যন্ত মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ জন বগুড়ার এবং ১৪ জন অন্য জেলার বাসিন্দা।
আরও পড়ুনঅন্যদিকে, আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ ডেঙ্গু রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ৯৪২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৭৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে, ওই ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে জেলায় চিকিৎসাধীন ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে সাতজন এবং বেসরকারি টিএমএসএস হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি রয়েছেন।
এছাড়া ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন, শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন এবং গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি পাঁচজন রোগী শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের উপজেলাভিত্তিক সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ পর্যন্ত ধুনট উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৩২ জন এবং শেরপুর উপজেলায় ১১৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন


_medium_1790584106.jpg)

_medium_1790577559.jpg)
_medium_1790576190.jpg)
_medium_1790574637.jpg)

