আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক দায়বদ্ধতা
নওগাঁর নিয়ামতপুরে ৮ মাসে ২শ’ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা, মৃত্যু ২৯
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। অথচ চরম হতাশা, পারিবারিক কলহ, প্রত্যাশার চাপ, অভিমান এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আত্মহত্যাকারীদের একটি বড় অংশই ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী। জীবনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সময়ে এসে যখন কেউ আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত পথ বেছে নেয়, তখন তা কেবল একটি জীবনের অপমৃত্যু নয়, বরং গোটা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তিমূলকে নাড়িয়ে দেয়।
ইসলামসহ সব ধর্মেই জীবনকে সৃষ্টিকর্তার এক পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে তাই ইচ্ছেকৃতভাবে সেই জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ। অথচ এই মহাপাপ কাজটি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র বলছে, নিয়ামতপুর কৃষি প্রধান এলাকা। এখানে কীটনাশক সহজলভ্য হওয়ায় লোকজনদের মধ্যে কীটনাশক পানের ঘটনা বেশি ঘটছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১০ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭ জন, মার্চ মাসে ২৮জন, এপ্রিল মাসে ৩১ জন, মে মাসে ২৯ জন, জুন মাসে ৩২, জুলাই মাসে ২৪ ও আগস্ট মাসে ২৯ জনসহ মোট ২শ’ ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ১৯৪ জন কীটনাশক পান করে ও ছয়জন ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা হত্যার চেষ্টা করেছে।
আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলে-মেয়ে। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকজনও রয়েছে। আত্মহত্যা চেষ্টাকারী বেশিরভাগের বয়স ১৫-৩৫ বছর। গত মাসে আত্মহত্যা চেষ্টা করা নিয়ামতপুর সদর ইউনিয়নের একজন কৃষকের (২০) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে রাগ করে তিনি কীটনাশক পান করেছিলেন।
আরও পড়ুনএকই ইউনিয়নের আরেকজন গৃহবধূর(১৮) চাচা জানান, সাংসারিক মনোমালিন্য হওয়ায় তার ভাতিজি স্বামীর উপর অভিমান করে কীটনাশক পান করেন। নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. ওবাইদুল হক চৌধুরী বলেন, স্মার্টফোনের অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, নৈতিক শিক্ষার অভাব, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতাসহ বিভিন্ন কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যা চেষ্টার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ প্রবণতা প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। পারিবারিক বন্ধন বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে। সবার সম্মিলত প্রয়াসে এ প্রবণতা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোসা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, নিয়ামতপুরে উদ্বেগজনকভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আর সচেতনতা বৃদ্ধি করলে এর প্রবণতা অনেকটা কমে আসবে। এজন্য সমাজের শিক্ষিত ও সচেতন ব্যক্তিদের সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন







