ভিডিও বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৫৮ পিএম

কুষ্টিয়ার কারাগার থেকে পালানো ১২৪ মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার কারাগার থেকে পালানো ১২৪ মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার ১২৪ মামলায় পলাতক আসামি মো.আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা পুলিশ।
 
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
 
তার বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাস ফাউন্ডেশন’ নামে এনজিও খুলে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
 
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সুকৌশলে আনিছ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আদালতে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।’
 
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ৭ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা কারাগার ভেঙে বেশ কিছু কয়দি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে এই আনিছুর রহমানও ছিল। গতরাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ফের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
আনিছুর রহমান কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে। ২০০৬ সালে আলাউদ্দিন নগর এলাকায় ‘শ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’নামে একটি এনজিও চালু করে।
 
পুলিশ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় কয়েকশ শাখা খোলেন আনিছ। দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদী ডিপিএসের নামে মোটা অংকের টাকা জমা নেন। একপর্যায়ে কয়েকশ কোটি টাকা জমা হলে তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি, গাড়িসহ সম্পদের পাহাড় গড়েন।
 
২০২৩ সালের নভেম্বরে কর্মীরা টাকার জন্য চাপ দিলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের শুরুতে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন আদালতে আনিছের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রায় ১২৪টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১২টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় তার।
 
২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালানোর সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলখানায় পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে আনিছুরসহ ১০৪ জন আসামি পালিয়ে যায়।
 
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কুমারখালী থানায় ভিড় করেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
 
রাজবাড়ীর পাংশার আব্দুল মাজেদ (৬৪) বলেন,‘সারা জীবন গার্মেন্টসে চাকরি করে সাড়ে ১ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। চার বছরে দ্বিগুণ লাভের আশায় আনিছের এনজিওতে রেখেছিলাম। দুই বছরের মাথায় সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।’
 
শিলাইদহের জাহানারা খাতুন বলেন, ‘চাকরির বেতন, বোনাস, জমির ইজারা, গরু-ছাগল বিক্রিসহ মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম আনিছকে। সব মেরে দিয়ে চলে গেছে। এনজিওর নামে আনিছ প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।’
 
আনিছের ভাগ্নি বিনা খাতুন বলেন, ‘দ্বিগুণ লাভের আশায় মামার কাছে তিন লাখ টাকা রেখেছিলাম। এখন সব শেষ। হয় টাকা ফেরত দিক, না হলে ওর ফাঁসি হোক।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ার কারাগার থেকে পালানো ১২৪ মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হলে ঢাবির অধিকাংশ শিক্ষক মুখ দেখাতে পারবে না: ডাকসু ভিপি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নেশাগ্রস্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ হাজার কেজি ভারতীয় জিরা জব্দ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর ৭২ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি নেই ৮০টিতে  

নাটোরে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ হাসপাতালে ভর্তি ১৩০ রোগী