নীলফামারীর ডিমলা খাদ্যগুদামে অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগে দুই কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা খাদ্যগুদামে দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের মধ্যে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি পেয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্ত দল। এর জেরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশীদ ও খাদ্য কর্মকর্তা নবাব আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফজলে রাব্বি হায়দারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের তদন্ত দল আকস্মিকভাবে ডিমলা খাদ্যগুদামে যায়। এসময় গুদাম থেকে একটি ট্রাকে চাল তোলার দৃশ্য নজরে আসে তাদের। পরে চালগুলো আটক করে গুদামেই জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসাথে মজুত, নথিপত্র, ধান-চাল সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ড যাচাই করা হয়।
ট্রাকে থাকা চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ডিলার রতন কুমারের জন্য বরাদ্দ ছিল বলে দাবি করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চাল সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৩১ আগস্ট। সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও চাল ছাড়ের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুনএদিকে গুদামের ৩৭ জন ডিলারের অভিযোগ, গত আগস্টে বড় বস্তায় চাল নেওয়ার জন্য ডিলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া কম ওজনের চাল, নিম্নমানের চাল, সরকারি বস্তা নিয়ে অনিয়ম ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
শুধু খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নয়, বোরো ধান সংগ্রহেও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত দল। অভিযোগ রয়েছে, গুদামের বাইরে একটি রাইস মিল থেকে বিপুল পরিমাণ ধান সংগ্রহ করে পরে তা সরকারি গুদামে উত্তোলন দেখানো হয়েছে। বিষয়টি যাচাইয়ে নথিপত্র ও সংগ্রহের হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফজলে রাব্বি হায়দার বলেন, ডিমলা খাদ্যগুদামের সার্বিক পরিস্থিতি মহাপরিচালককে জানিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। তার নির্দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন






