১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে সরকার সমব্যথী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করছে। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, নষ্ট হওয়া একটি এফএসআরইউ মেরামতের পরও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮ শতাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা গেলেও বাকি ১২ শতাংশ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেটিও ঠিক করার চেষ্টা চলছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে নেই। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লাবাহী লাইটারেজ আনা যাচ্ছে না। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কয়লা সরবরাহ সহজ হবে এবং পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা সম্ভব হলে বিদ্যুৎ খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি পর্যায়ের ভোগান্তি কমবে।
তিনি আরও বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করছে সরকার। সংবাদ সম্মেলনে ইস্টার্ন রিফাইনারির সেকেন্ড ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এক বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রুড অয়েল পরিশোধন সক্ষমতা আরও তিন গুণ বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বছরে প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিকটন ক্রুড অয়েল পরিশোধন সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ শতাংশের বেশি মেটানো সম্ভব হবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডিপিপি অনুযায়ী ২০৩০ সালে প্রকল্পটি চালুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই এটি শেষ করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1788421580.jpg)
_original_1786527855_medium_1788421016.jpg)
_medium_1788420046.jpg)
_medium_1788419114.jpg)
_medium_1788416359.jpg)
_medium_1788414201.jpg)
_medium_1788421847.jpg)
_medium_1788421153.jpg)