ভিডিও বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯ এএম

যেভাবে তিব্বতে বন্যার ছবি ধামাচাপা দিয়েছে চীন

যেভাবে তিব্বতে বন্যার ছবি ধামাচাপা দিয়েছে চীন

চীন-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন জনপদ এখন বন্যায় বিধ্বস্ত। নেপালের খবর সঙ্গে সঙ্গে জানা গেলেও তিব্বতের পরিস্থিতি সেভাবে জানা যায়নি।কারণ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া অনেক ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছিল। সেইসব ভিডিও সরিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সরকারের প্রচারণামূলক বিষয়বস্তুতে ভরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের যাবতীয় দৃশ্যমান প্রমাণাদি মুছে ফেলার সেই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়েছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

ফলে বেঁচে যাওয়া মানুষরা সেদিন ভয়াবহ বন্যার ভিডিও আপলোড করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু চীন সরকারের তথ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যত নিষ্ফল হয় সেই চেষ্টা। জনমতকে নিজেদের অনুকূলে নিতে এবং দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতির অস্বস্তিকর সত্য ধামাচাপা দিতে অত্যন্ত সুনিপুণ ও নিখুঁত কৌশল অবলম্বন করে সরকার।

যেভাবে ন্যাশনাল গেট তলিয়ে যাওয়ার ভিডিও উধাও

বন্যাজনিত ভূমিধসের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা চীন ও নেপালের মাঝের স্থলপথে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র গিরং পোর্ট-এর প্রবল স্রোতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধারণ করেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ভিডিওটিতে দেখা যায়, পানি ও ধ্বংসস্তূপের কালো দেয়াল-সদৃশ বিশাল এক স্রোত গুঁড়িয়ে দিচ্ছে সীমান্তের ন্যাশনাল গেট।

চীনের জনপ্রিয় অ্যাপ উইচ্যাটে ‘গিরং পোর্টে ধেয়ে এলো আনসেন্সর্ড ভূমিধস’ শিরোনামের এক নিবন্ধে স্থানীয় ব্লগার মাতৌ ছিংনিয়েন ভয়াবহ সেই দৃশ্য তুলে ধরেন। ছিংনিয়েন বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তটি গিরং পোর্টে ঘটেছিল।

সেখানে তিনি বলেন, আতঙ্কিত মানুষেরা (যার মধ্যে শিশুরাও ছিল) তখন প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করছিল। কিন্তু তাদের ছুটে প্রাণরক্ষার চেষ্টার সেই ভিডিও হঠাৎ শেষ হয়ে যায় কুচকুচে কালো এক স্রোতধারা এসে ক্যামেরার দৃশ্যপট গ্রাস করে নেয়ায়।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চীনের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সেই নিবন্ধ এবং মূল ভিডিও ফুটেজ উধাও হয়ে যায়

আরও পড়ুন

চায়না ডিজিটাল টাইমসের (সিডিটি) তথ্য অনুযায়ী, নেপাল-চীন সীমান্তের ওই গেট ধসে পড়ার ভিডিওটি উইচ্যাটে শেয়ার করা, এমনকি ব্যক্তিগত মেসেজে আদান-প্রদান করাও সেদিন আটকে দেওয়া হয়েছিল।

সংবেদনশীল কী-ওয়ার্ড ও মিডিয়া পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞ, সিডিটি-র সম্পাদক মিরা মনে করেন, এমন সেন্সরশিপের মূল কারণ, ‘জাতীয় গেট’ নামের প্রতীক, কেননা, ভিডিও ফুটেজটিতে কোনো বীভৎস সহিংসতা, বিক্ষোভ কিংবা রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না।

চায়না ডিজিটাল টাইমসের (সিডিটি) তথ্য অনুযায়ী, নেপাল-চীন সীমান্তের ওই গেট ধসে পড়ার ভিডিওটি উইচ্যাটে শেয়ার করা, এমনকি ব্যক্তিগত মেসেজে আদান-প্রদান করাও সেদিন আটকে দেওয়া হয়েছিল।

সংবেদনশীল কী-ওয়ার্ড ও মিডিয়া পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞ, সিডিটি-র সম্পাদক মিরা মনে করেন, এমন সেন্সরশিপের মূল কারণ, ‘জাতীয় গেট’ নামের প্রতীক, কেননা, ভিডিও ফুটেজটিতে কোনো বীভৎস সহিংসতা, বিক্ষোভ কিংবা রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না।

ডিজিটাল বিশ্লেষকদের মতে, এই সেন্সরশিপ চীনের ইন্টারনেট নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে তুলে ধরে। এখন কেবল টেক্সট-ভিত্তিক কী-ওয়ার্ড ফিল্টার না করে প্ল্যাটফর্মগুলো নির্দিষ্ট দৃশ্য শনাক্ত করতে ভিডিও ফিঙ্গারপ্রিন্টিং, ইমেজ হ্যাশিং এবং মেশিন-লার্নিং মডেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে।

তাই এখন কোনো দৃশ্যমান বিষয়বস্তু বা ভিডিও একবার ব্লকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত হলে, তা অনলাইনে প্রকাশের আগেই আটকে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যেভাবে তিব্বতে বন্যার ছবি ধামাচাপা দিয়েছে চীন

জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীর মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল চালু হতে যাচ্ছে নতুন রূপে

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদায়ী ও নবাগত ইপিআই’র মধ্যে উত্তেজনা : অফিসে তালা

ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুরে মাদকদ্রব্য ও ১০ লাখ টাকা উদ্ধার আটক ২

বগুড়ার শেরপুরে কল্যাণী নৌকা বাইচ মেলা শুরু