চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষের পর সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড সদরে পৌরসভা এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
জানা যায়, একই স্থান ও সময়ে বিএনপির দুই পক্ষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি আয়োজন করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মো. সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।কয়েকজন গুলির শব্দ শোনারও দাবি করেন। তবে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গুলি চালানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষের নেতা-কর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়ক থেকে নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম (টিবিএস) বলেন, 'বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।'
গুলির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি। পটকা ফাটানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।'
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিন (টিবিএস) বলেন, 'সীতাকুণ্ড সদর এলাকায় তার পক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে তারা অবস্থান করছিল।'
আরও পড়ুন
হামলায় তিন থেকে চারজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কাজী সালাউদ্দিন বলেন, 'প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষ এসেছিল। অস্ত্রধারীদের সামনে নিরীহ নেতা-কর্মীরা ছিল।'
হামলার পর সীতাকুণ্ডের বড়দারগাট এলাকায় বিএনপির ২ নম্বর ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সালামের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'পাশের বৈশাখী ক্লাবেও ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নেতা-কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।'
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী টিবিএসকে জানান, তিনি তখনও কর্মসূচিতে পৌঁছাননি এবং বাসা থেকে রওনা হয়েছেন।
তিনি বলেন, 'আমি এখনও কর্মসূচিতে পৌঁছাইনি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি মাত্র শুরু হচ্ছে। এ অবস্থায় আমার লোকজন বা অনুসারীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে—এমন অভিযোগ আমার জানা নেই।'
সীতাকুণ্ডে কী ঘটেছে, তা তার জানা নেই জানিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, 'রাস্তায় যানজট দেখছি। হয়তো কর্মীদের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটেছে। তবে আমার কোনো লোকজন কাউকে অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে—এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই।'