ভিডিও মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:১৩ এএম

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

ছবি : সংগৃহীত, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)। ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা পার্কে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দলটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর চার দশকের বেশি সময়ে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালনা করছে বিএনপি।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্ব নেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ এবং পরে অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারেননি।

লন্ডনে নির্বাসিত অবস্থায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তারেক রহমান। ২০০৬ সাল থেকে ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। একই মাসের ৩০ ডিসেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার মা ও দলের তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এরপর ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি বিএনপির পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। পরের মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে তার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বাংলাদেশিদের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তার দাবি, দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল যুগান্তকারী ঘটনা। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল। পরে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতির অধিকার ফিরিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা জীবন দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের অবদানও তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, জনগণ যখনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারী শিক্ষার প্রসারসহ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবার বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি। বাংলাদেশকে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা দেশসেবায় ভূমিকা রাখবেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। তাঁর মতে, বিএনপির অপর নাম জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ৯টায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হবে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ২৬ আগস্ট এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে আইপিইউ মহাসচিবের সাক্ষাৎ

ইরানের সঙ্গে এই মুহূর্তে কূটনৈতিক চুক্তির প্রয়োজন মনে করছে না যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি হামলার জবাব দেওয়া হবে: ট্রাম্প

‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ সদরদপ্তর রিয়াদে, প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানি

বড় জয়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের শুভ সূচনা