বগুড়ার সোনাতলায় বাড়ির আঙিনায় পলিনেট পদ্ধতিতে মরিচের চারা তৈরি
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : সোনাতলায় অর্থকরী ফসল মরিচ চাষের জন্য বাড়ির আঙিনায় অল্প জায়গা, সামান্য পরিচর্যা আর আধুনিক পলিনেট পদ্ধতি-এই তিনের সমন্বয়ে মরিচের চারা তৈরি করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠের বিশাল জমির পরিবর্তে বাড়ির আঙিনাতেই নিরাপদ পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সবল ও স্বাস্থ্যকর মরিচের চারা।
সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর, খাবুলিয়া, মহব্বতের পাড়া, জন্তিয়ারপাড়া, ভিকনের পাড়া, পূর্ব তেকানী, খাটিয়ামারী, মির্জাপুর, দাউদিয়ারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন বাড়ির আঙিনায় ছোট পরিসরে পলিনেটের নিচে মরিচের বীজ বপন করে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। পলিনেট ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত রোদ, বৃষ্টি এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় থেকে চারাগুলো সুরক্ষিত থাকে। ফলে সুস্থ ও সবল চারা উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়ছে।
উপজেলার খাটিয়ামারী এলাকার রনি সরকার, মহেশপাড়া এলাকার ছামছুল হক, জন্তিয়ারপাড়া এলাকার তুহিন মিয়া বলেন, ভালো ফলনের জন্য মানসম্মত চারার কোনো বিকল্প নেই। তাই জমিতে সরাসরি বীজ বপনের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চারা তৈরির কাজে ব্যস্ত তারা। এতে চারার পরিচর্যা সহজ হচ্ছে এবং কম জায়গায় তুলনামূলক বেশি চারা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, সকাল-বিকেল নিয়মিত চারার পরিচর্যায় তাদের ব্যস্ত সময় কাটছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার এবং রোগবালাই থেকে চারাকে রক্ষা করতে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। তারা আরও বলেন, আগে মরিচের চারা তৈরির জন্য খোলা জায়গার ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন পলিনেট ব্যবহার করায় চারা বৃষ্টি ও অতিরিক্ত রোদ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাচ্ছে।
আরও পড়ুনবাড়ির আঙ্গিনায় চারা শেড থাকার কারণে নিয়মিত পরিচর্যাও করা যায়। বাড়ির আঙিনায় চারা উৎপাদনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সার্বক্ষণিক নজরদারি করা যায়। কোনো চারায় রোগ বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, পলিনেট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সঠিক বীজ নির্বাচন, উপযুক্ত মাটি বা চারা মাধ্যম ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্তব্য করুন

_medium_1788016058.jpg)






