ভিডিও শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:১৫ পিএম

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবারে অনিয়ম

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবারে অনিয়ম

জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগীদের খাবার সরবরাহে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের মেনু অনুযায়ী নাড়িভুঁড়ি বাদে প্রতিটি মাছের ওজন সর্বনিম্ন ১ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে আস্ত (মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়িসহ) ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ছোট মাছ। এ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিনে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের দুপুরের ও রাতের খাবারের জন্য বেশ কিছু ছোট আকারের মাছ রাখা আছে। ডিজিটাল ওজন পরিমাপক যন্ত্রে মেপে দেখা যায়, নাড়িভুঁড়ি ও আঁশ ছাড়ানোর আগেই একেকটি মাছের ওজন মাত্র ৪৯৫ গ্রাম থেকে ৫০০-৬০০ গ্রামের মধ্যে। রান্না ঘরের বালতিতে এভাবে রাখা ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৪ কেজি মাছ।

সরকারি নিয়ম ও হাসপাতালের নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী, প্রতিটি মাছের সাইজ এমন হতে হবে যেন নাড়িভুঁড়ি ফেলার পর ড্রেসড অবস্থায় তার ওজন কমপক্ষে ১ কেজি থাকে। ফলে ঠিকাদারের সরবরাহ করা মাছের ওজন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে প্রায় অর্ধেক।

এ বিষয়ে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। আপনারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, বাজারে নির্দিষ্ট ওজনের মাছ না পাওয়া গেলে মনগড়া বা কম ওজনের মাছ সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। এমন ক্ষেত্রে মেনু পরিবর্তন করে বিকল্প সমমানের খাবার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব দ্রুত রান্নাঘরে উপস্থিত হন।

আরও পড়ুন

তিনি মাছগুলো পরিমাপ করে প্রদেয় ওজনের ব্যাপক তফাত দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সরবরাহকৃত সব মাছ বাতিল ঘোষণা করেন এবং মেনু পরিবর্তন করে রোগীদের জন্য মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর ঠিকাদারকে বাতিলকৃত মাছগুলো প্যাকেট করে ফেরত নিয়ে যেতে দেখা যায়।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগীর স্বজন সজল হোসেন ক্ষোভ  প্রকাশ করে বলেন, আমার চাচা বেশ কয়েকদিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখানে রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয় তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। মাছের দিনে যে মাছ দেয় তা সাইজে খুব ছোট। মাথা ও লেজ বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয় না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব বলেন, মেনু ও ওজন অনুযায়ী মাছ না থাকায় সরবরাহকৃত মাছগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোগীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মেনু পরিবর্তন করে মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ মুঠোফোনে জানান, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি, তবে বিষয়টি জেনেছি। খবর পাওয়ার পরপরই ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের ফোন দিয়ে মেনু পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছি। হাসপাতালের খাবারে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না, এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবারে অনিয়ম

বগুড়ায় এসে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখালেন জকসু ভিপি রিয়াজুল

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না, স্থায়ী অবকাঠামো নেই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসনাতের কর্মসূচি নিয়ে মাদানীর হুঁশিয়ারি

বগুড়ায় ডাকটিকিট ও চিঠি প্রদর্শনী শুরু

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ছাগল চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার