বগুড়ার মাটিডালিতে ফল, কাঁচামাল ও মাছের আড়ৎ স্থানান্তরে সিটি কর্পোরেশনের ডিপিপি প্রস্তুত
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শহরের তীব্র যানজট নিরসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত ফল, কাঁচামাল-সবজি ও মাছের আড়ৎগুলো দ্বিতীয় বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে চার শতাধিক ব্যবসায়ী ও আড়ৎদার সমিতির নেতৃবৃন্দের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়া সিটি কর্পোরেশন একটি ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুত করেছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্রধান আড়ৎগুলোর কারণে প্রধান সড়কগুলোতে সার্বক্ষণিক তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক লোড-আনলোড করার ফলে সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এর মধ্যে স্টেশন রোড ও তিনমাথার মোড়ে অবস্থিত ‘রেহেনা ফলমণ্ডি’তে সারাদিন পাইকারি ফল কেনাবেচা চলে। ক্রেতাদের মিনি ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিকশার ভিড় এবং সড়কের ওপর পার্কিংয়ের কারণে স্টেশন রোড এলাকায় স্থবিরতা নেমে আসে।
এছাড়া কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত ‘রাজাবাজার কাঁচামাল আড়ৎ’-এ প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক ট্রাক পণ্য খালাস করায় চাঁদনী বাজার, বড়গোলা ও সাতমাথা এলাকায় স্থায়ী যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, চেলোপাড়ার ‘চাষীবাজার’ ও মৎস্য আড়তে প্রতি রাতে কয়েকশ মাছের ট্রাক যাতায়াত করায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত পুরো এলাকা যানজটের কবলে অবরুদ্ধ থাকে।
জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় এসব প্রতিষ্ঠান শহরের মূল সীমানার বাইরে স্থানান্তরের পক্ষে একমত হয়েছেন। তারা মাটিডালি দ্বিতীয় বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় কমপক্ষে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে একটি সমন্বিত আধুনিক আড়ৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুনব্যবসায়ীরা জানান, এর আগে ২০০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তৎকালীন বগুড়া পৌরসভার অনুকূলে বারবাকপুর মৌজায় ২.৯৮ একর জায়গা অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছিল। উক্ত জায়গার সাথে আরও ৭.০২ একর জমি যুক্ত করে মোট ১০ একর জমিতে স্থায়ী আড়ৎ কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানান তারা। সরকারি নিয়মনীতি মেনে সিটি কর্পোরেশনকে যাবতীয় রাজস্ব প্রদানে ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন।
আবেদনকারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন, পাইকারি দেশি-বিদেশি ফল আমদানিকারক আড়ৎদার ও পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ মুনছুর আলম, রাজাবাজার কাঁচামাল আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন, বগুড়া মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষে মো. স্বাধীন এবং চাষীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সুকুমার চন্দ্র দাস।
এ বিষয়ে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তা মন্ত্রণালয়ে যাবে। প্রকল্পের অনুমোদন মিললে জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত আড়ৎগুলো শহরের বাইরে স্থানান্তর করা হবে।
মন্তব্য করুন





_medium_1786895249.jpg)

