প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান প্রস্তাব হাসনাতের
বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে জ্বালানি সংকট সমাধানে নিজেদের পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো দলের পরিকল্পনা ছয় মাসের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার সমাধান করতে পারলে সরকার তা বাস্তবায়ন করবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। তার দাবি, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ইতোমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে ১৫ দফা সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ দিনের জন্য পাঁচটি, ৬ থেকে ১৮ মাসের জন্য ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে চারটি প্রস্তাব রয়েছে।
হাসনাত অভিযোগ করেন, ভর্তুকি নীতি, জ্বালানি পরিকল্পনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকেও বিভিন্ন মতামত এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে তিনি ২০২৫ সালের মার্চেন্ট পাওয়ার নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এতে সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না; কেবল চুক্তি ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার কিছু প্রশাসনিক বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে।
আরও পড়ুনহাসনাত আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনে ব্যাপক দলীয় পদায়নের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার যদি ছয় মাসের মধ্যে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করতে না পারে, তাহলে সেটি নীতিগত নয়, সরকারের সক্ষমতার ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে। তার দাবি, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব আলোচনা করতে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনও ডাকা উচিত।
সবশেষে হাসনাত বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের পরিকল্পনা বিরোধী দলের হাতে থাকলেও ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণকেই মূল্যায়ন করতে হবে—দেশ অন্ধকারে থাকার কারণ পরিকল্পনার অভাব, নাকি তা বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







