ভিডিও বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:১৩ পিএম

৫ বছরে উৎপাদন কমেছে ৫৫ শতাংশ   

পাবনার বেড়ায় ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ

সংগৃহীত,পাবনার বেড়ায় ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার পদ্মা ও যমুনা নদীতে ভরা মৌসুমেও মিলছে না কাক্সিক্ষত ইলিশ। গত পাঁচ বছরে এ অঞ্চলে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৫৫ শতাংশ কমে গেছে। ফলে দিনের পর দিন নদীতে জাল ফেলেও অনেক জেলে ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। এতে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এ পেশার সাথে জড়িত কয়েক হাজার জেলে পরিবারের সদস্য। 

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের পর থেকে উৎপাদনে ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। যদিও চলতি মৌসুমে উৎপাদনে কিছুটা ইতিবাচক আভাস মিলছে। বর্তমানে বেড়া উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৭১ জন। এছাড়া প্রায় ১৫০টি মাছ ধরার নৌকায় দেড় হাজারের মতো জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময় ইলিশের প্রধান মৌসুম হলেও এবার মৌসুমের শুরু থেকেই হতাশা ঘিরে ধরেছে তাদের।
উপজেলার ভারেঙ্গা ইউনিয়নের কল্যাণপুর চরের জেলে শাহিন আলম বলেন, একটি নৌকায় ৮ থেকে ১০ জন কাজ করা হয়। প্রতিদিন জ্বালানি ও খাবারসহ অনেক খরচ হয়। কিন্তু সারাদিন নদীতে থেকেও দুই-তিনটির বেশি ইলিশ পাওয়া যায় না। অনেক দিন খরচের টাকাও ওঠে না। একই কথা জানান আরও কয়েকজন জেলে। বলেন, অনেকে ধার-দেনা করে নদীতে নামছেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে, নদীতে ইলিশ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। সরবরাহ কম থাকায় আড়তে ইলিশের দাম বেড়েছে। বর্তমানে ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশ ২ হাজার ৬শ’ থেকে ২ হাজার ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

বেড়া উপজেলার মাছের আড়ৎদার মহাদেব হালদার বলেন, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে সাধারণত আড়ৎ ইলিশে ভরে থাকে। এবার আড়তে ইলিশের দেখা নেই। অন্য বছরের তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। তাই বাজারে মাছের দামও অনেক বেশি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মৌসুমী অভিযান চালিয়ে বা জাল জব্দ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ক্যাপিটাল ড্রেজিং, ডুবোচর অপসারণ, ইলিশের চলাচলের পথ স্বাভাবিক রাখা, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ এবং জাটকা সংরক্ষণে বছরজুড়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সংকটে থাকা জেলে পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

বেড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকাররম হোসেন বলেন, পদ্মা-যমুনা নদীতে নাব্যতা কমে যাওয়া, পলি জমে ডুবোচর সৃষ্টি, গভীর পানির অভাব, নদীদূষণ, নৌযানের অতিরিক্ত চলাচল, জাটকা নিধন এবং নিষিদ্ধ অবৈধ জালের ব্যবহারের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। তবে নদীতে পানি বৃদ্ধি, ভারি বৃষ্টিপাত এবং জাটকা সংরক্ষণ ও অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাবনার বেড়ায় ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ

আনন্দঘন পরিবেশে বগুড়ায় দৈনিক করতোয়ার ৫১ বছরে পদার্পণ উদযাপিত

মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক এমপি পুত্র রাসেল

পাবনার সুজানগরে লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

যারা রাজনীতি করে তাদেরকে আপনারা দৌড়ানির উপরে রাখবেন - নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ময়মনসিংহে পাসপোর্ট অফিসের সামনে যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা