‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায় স্যার’ বলা সেই ডিসি ইকবাল বরখাস্ত
‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এমন বক্তব্যের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক এ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক আদেশে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর বিষয়ে বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’
ভিডিওতে দেখা যায়, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের সামনে ইকবাল হোসাইন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখাচ্ছেন। তখনই তিনি ওই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুনবরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার আদেশে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট অপরাহ্নে ওই কার্যালয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
তবে এরপর কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনাকে সরকারি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা এবং সরকারি আইনানুগ আদেশ প্রতিপালনে অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি জবাব দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক



_medium_1786526831.jpg)
_medium_1786525803.jpg)
_medium_1786522420.jpg)
_medium_1786516477.jpg)
