ভিডিও বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:৩৭ পিএম

মক্কা চুক্তিতে আরও দেশ চান এরদোগান

মক্কা চুক্তিতে আরও দেশ চান এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় শুধু তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি আঞ্চলিক আরও দেশকে এই চুক্তির আওতায় আনার প্রত্যাশা করেছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) আরব সংবাদমাধ্যম আশরাক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেন, আমাদের এই লক্ষ্য শুধু তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা এটিকে আরও বিস্তৃত করতে চাই এবং সম্ভব হলে একদিন এই কাঠামোর আওতায় এ অঞ্চলের সব দেশকে নিয়ে আসতে চাই। দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে এটি হবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে কেবল এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন এরদোগান। তিনি বলেন, এমন ব্যাখ্যা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি ও উদ্দেশ্য যথাযথভাবে বোঝা যাবে না।

চুক্তিটি কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় উল্লেখ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা চায়—এমন সব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অংশগ্রহণের জন্য এই চুক্তি উন্মুক্ত।

এরদোগান বলেন, এই চুক্তির পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অন্যান্য স্বাক্ষরকারী দেশ ও অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল।

আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করার বিষয়ে নিজের আগের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুরস্ক সেই অনুযায়ী কাজ করে আসছে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সমাধান কী ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, তা তারা জানেন। এ কারণেই তুরস্ক সবসময় এমন নীতি অনুসরণ করেছে, যেখানে আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা ও সম্মিলিত প্রজ্ঞাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

এরদোগানের ভাষায়, পরিবর্তিত আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। এটি দৈনন্দিন কোনো ঘটনাপ্রবাহের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়।

আরও পড়ুন

নতুন আঞ্চলিক পরিস্থিতির ফল চুক্তি

এরদোগান বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নতুন পরিস্থিতির ফল এবং এটি দেশগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ববোধ থেকে এসেছে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের সমস্যার দায়িত্ব নিজেরাই নেবে এবং নিজেদের মধ্যেই সমাধান করবে—তুরস্ক সবসময় এই নীতির পক্ষে। এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো এ অঞ্চলের নিজেদের পক্ষগুলোর মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। আমরা বলতে পারি, এখন আমরা সেই পথে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছি।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে সংহতির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন এরদোগান। 

এরদোগান বলেন, এই চুক্তি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার সহযোগিতার চেয়েও বড় বিষয়। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রত্যাশী অন্য দেশগুলোর জন্যও এর দরজা খোলা রয়েছে।

তার মতে, আঙ্কারা এই চুক্তিকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংহতির নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাভারে প্রেশারকুকার বোমা নিষ্ক্রিয়ের সময় বিকট শব্দ, কেঁপে উঠলো এলাকা

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল

কর্ণফুলী গ্রুপের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ২৫ বছর হলেই আবেদন

চীনের শক্তিমান অর্থনীতির বড় সংস্কারক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি মারা গেছেন

ভোলার চরফ্যাশনে মিয়ানমারে পাচারের সময় ২৯৩ বস্তা সার জব্দ, আটক ৪

মক্কা চুক্তিতে আরও দেশ চান এরদোগান