ভিডিও রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০২ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৫৯ পিএম

বগুড়ায় এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন : প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য

বগুড়ায় এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য

স্টাফ রিপোর্টার: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী এআই  প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ রোববার (২ আগস্ট) বগুড়ার ‘মম ইন’ মিলনায়তনে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে মুখ্য আলোচকের বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন এবং ফ্রিল্যান্সার সুস্মিতা কর্মকার, রিপন কুমার, রাফি উল্লাহ ফুয়াদ ও মাসুদ আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় দুই হাজার প্রশিক্ষণার্থী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও সমন্বয়কারীরা ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুবসমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে ভূমিকা রাখবে।”

বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধান অতিথি বলেন, গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের রোষানলে পড়ে বগুড়া চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। অতীতে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, টাকা বরাদ্দ হলেও কাজ না করে সব পকেটে ভরা হয়েছে। বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো প্রকৃত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন তুলে ধরে তিনি আরও জানান, বগুড়াসহ ১০টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হচ্ছে এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলাতেই স্পোর্টস ভিলেজ করা হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় বর্তমানে ৩০০ জন সাবেক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে, যা অচিরেই ৫০০ জনে উন্নীত করা হবে।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় বাছাই চলছে, স্কুলে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং আগামী অলিম্পিকে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে যুবদের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। বিগত সরকার ‘ডিজিটাল’-এর গল্প শোনালেও তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন

বগুড়ার সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ২০ বছর বগুড়াবাসী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বগুড়াকে প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিমানবন্দর, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ, ওয়াসা, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডিএ) ও মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন সময়ের দাবি।

বগুড়ায় কোনো আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়াম না থাকায় স্পোর্টস জোন করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি ও ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সব ফ্যাকাল্টি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেসকোর হেড অফিস বগুড়ায় স্থাপনের কাজ অগ্রাধিকার পাবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তার বক্তব্যে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তোলার আহ্বান জানান।

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম জানান, প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের চাহিদা মাথায় রেখে এআই ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে প্রশিক্ষণার্থীদের আধুনিক এআই টুলস ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।

সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম বলেন, এ প্রশিক্ষণের ফলে যুবসমাজ কেবল প্রযুক্তিতে দক্ষ হবে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতে তা বড় ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে ২৫ জন করে মোট ১,৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। মোট ৪৪৮টি ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন অংশ নেবেন। দুই মাস মেয়াদি এই কোর্সে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠান শেষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের চলমান ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পের আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ আয়কারী ৮ জন ফ্রিল্যান্সারের হাতে পুরস্কার হিসেবে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার ২৪ জন সফল ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন : প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য

সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুয়ে পানি, দুর্ভোগে বগুড়া সোনাতলার ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

নাটোরে সাপের কামড়ে ফেরিওয়ালার মৃত্যু

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পাটের বাম্পার ফলনে কৃষকের চোখে সোনালী স্বপ্ন

অজপাড়াগাঁ থেকে লাখপতি : ফ্রিল্যান্সার রিপনের গল্পে মুগ্ধ প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু