জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিতে বগুড়া
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে তীব্র জনবল সংকট এবং মাঠপর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সাময়িক অপ্রতুলতার কারণে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বগুড়া জেলার মোট জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৩৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৯৭ জন, যা পুরো দেশের মধ্যে ষষ্ঠ এবং উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার মধ্যে বৃহত্তম।
প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ২৮৮ জন মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার শূন্য ৮৩ শতাংশ। বগুড়া পৌরসভা এলাকার জনসংখ্যাই ৪ লাখ ২২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারাকে টেকসই পর্যায়ে রাখতে যেখানে মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি প্রয়োজন, সেখানে বগুড়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় চলছে তীব্র জনবল ঘাটতি নিয়ে।
বর্তমানে জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অনুমোদিত পদের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মূল কারিগর-পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) পদের একটি বড় অংশ খালি। অপরদিকে বগুড়ায় সক্ষম দম্পতিদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের সামগ্রিক হার প্রায় ৭২ থেকে ৭৫ শতাংশ হলেও মাঠপর্যায়ে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে।
সরবরাহ সংকটের কারণে মাঝে মাঝেই খাবার বড়ি, ইনজেকশন বা ইমপ্লান্টের সাময়িক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলগুলো। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং বর্ষাকালে নৌ-যোগাযোগের সংকটের কারণে চরের দম্পতিদের কাছে সময়মতো সরকারি কনডম বা পিল পৌঁছানো যাচ্ছে না।
মাঠকর্মীর অভাব এবং সামগ্রীর এই অপ্রতুলতার কারণে চরাঞ্চলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার হার প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে এসব এলাকায় বাল্যবিয়ে ও অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
আরও পড়ুনজানতে চাইলে বগুড়ার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক প্রসেনজিৎ প্রণয় মিশ্র বলেন, ২০২২ সালের পর মাঠ পর্যায়ে কোন নিয়োগ হয়নি। বগুড়া কার্যালয়ে জনবল সংকট দীর্ঘ দিনের। ফলে জন্ম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য পূরণে বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়াও জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রীর সংকট রয়েছে।
বিগত ৫ মাস ধরে ইমপ্লান্ট সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য সামগ্রীও অপ্রতুল। বিগত দুই বছর এসব নিয়ে কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা হয়নি, তবে বর্তমান সরকার সেই শূন্যতা পূরণে কাজ শুরু করেছে।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান বনানীস্থ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।
এছাড়া অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১১-১৩ জুলাই সকল উপজেলার এমসিএইচ ইউনিটে পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশু স্বাস্থ্য ও কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা প্রদান এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ক সচেতনামূলক অনুষ্ঠান।
মন্তব্য করুন









