ইংল্যান্ডে জন্মেও যে কারণে নরওয়েকে বেছে নিলেন হলান্ড
স্পোর্টস ডেস্ক : জন্ম ইংল্যান্ডে, ফুটবলীয় পরিচয় নরওয়ের। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের জন্মভূমির স্বপ্ন ভেঙেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ আর্লিং হলান্ডের সামনে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবে নরওয়ে। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জনের অন্যতম প্রধান নায়ক হওয়ার অপেক্ষায় ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন।
প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন হলান্ড। জায়গা করে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায়ও। তবে আজকের ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারে যোগ করতে যাচ্ছে ভিন্ন এক অধ্যায়। কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারই প্রথম নিজের জন্মভূমি ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন নরওয়ের এই ‘নাম্বার নাইন’।
আর্লিং হলান্ডের জন্ম নরওয়েতে নয়, উত্তর ইংল্যান্ডের লিডস শহরে। তার বাবা সাবেক ফুটবলার আলফ-ইঙ্গে হলান্ড। আর্লিংয়ের জন্মের সময় তিনি লিডসের হয়ে খেলতেন। সেই সূত্রে চাইলে ইংল্যান্ডের জার্সিতেও আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে পারতেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার।
হলান্ডের শৈশবের শুরুর দিকটাও কেটেছে ইংল্যান্ডে। তার বাবা পরে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন এবং ২০০৩ সাল পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে খেলেন। এরপর গুরুতর চোটে পড়ে আলফ-ইঙ্গে নরওয়েতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার সঙ্গে পুরো পরিবারও চলে যায় নিজেদের দেশে।
নরওয়ের ব্রিনে শহরে বড় হয়েছেন হলান্ড। শহরটির নামানুসারে গড়ে ওঠা ক্লাবের হয়েই ফুটবলে তার হাতেখড়ি এবং ক্যারিয়ারের প্রথম গোলগুলোর দেখা পান তিনি। খুব ছোটবেলা থেকেই নরওয়ের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও তিনি সব সময় পরিবারের আদি দেশকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। নরওয়ের প্রায় প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন হলান্ড।
২০২২ সালে গোল ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলান্ড বলেছিলেন, ‘আমি এখানে (ইংল্যান্ডে) সাড়ে তিন থেকে চার বছর কাটিয়েছি, কিন্তু দীর্ঘ সময় থেকেছি নরওয়েতে। তাই আমার জন্য নরওয়েকে বেছে নেওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। আমার বাবা যদি ইংল্যান্ডে আরও দীর্ঘদিন খেলতেন, তবে কী হতো তা আমরা কেউই জানি না—হয়তো আমি ইংলিশই হয়ে যেতাম। কিন্তু আমি একজন নরওয়েজিয়ান এবং এটা নিয়ে আমি গর্বিত।’
আরও পড়ুনমাত্র ১৯ বছর বয়সে নরওয়ের সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হয় হলান্ডের। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ৫৪ ম্যাচে করেছেন অবিশ্বাস্য ৬২ গোল। তার গোলের ওপর ভর করেই নরওয়ে পেয়েছে ঐতিহাসিক এক বিশ্বকাপ অভিযানের দেখা। আজ ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে ভাইকিংরা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে।
আরও মজার ব্যাপার হলো, যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজ ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে নামবেন হলান্ড, সেই দেশের মাটিতেই তিনি এখন ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করছেন। বাবার পথ অনুসরণ করে ২০২২ সাল থেকে খেলছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে।
ক্লাবটির হয়ে ইতোমধ্যে তিনি জিতেছেন একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি এফএ কাপ, একটি লিগ কাপ, একটি কমিউনিটি শিল্ড এবং একটি উয়েফা সুপার কাপ। এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার তিনবার প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন।
এবার জন্মভূমি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নরওয়েকে প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতে পারলে হলান্ডের ক্যারিয়ারে যোগ হবে আরও একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।
মন্তব্য করুন








