লাশ বাড়িতে নেয়ার সামর্থ্য নাই নি:স্ব পরিবারের
মালয়েশিয়ায় হার্ট এ্যাটাকে বগুড়ার শাজাহানপুরের জাহাঙ্গীরের মৃত্যু
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: টাইলস্ মিস্ত্রি জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮)। অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরাতে স্ত্রী এবং ৭ বছর ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশু কন্যাকে রেখে আড়াই বছর আগে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। বিদেশ যেতে তার প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয়। তার সিংহ ভাগই ছিল স্বজনদের কাছ ধার দেনা এবং এনজিও’র ঋণ। গত ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মালয়েশিয়াতে নিজ শয়ন কক্ষেই হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যু হয় জাহাঙ্গীরের।
মৃত জাহাঙ্গীর বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের জালশুকা পশ্চিমপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুস ছাত্তারের ছেলে। মৃত্যুর সংবাদটি মোবাইল ফোনে সাথে সাথেই পৌঁছে যায় পরিবারের কাছে। এরপর থেকে ৫দিন যাবত জাহাঙ্গীরের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। জাহাঙ্গীরের লাশ পড়ে আছে মালয়েশিয়ার হিম ঘরে।
আর তার বাড়িতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান। স্ত্রী নাসরিন আক্তার জানান, জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। ১ম শ্রেণিতে পড়ুয়া নুসাইবা আক্তার রাফিয়া (৭) এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ফারিয়া আক্তার জেবা (১১) এই দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তিনি দিশেহারা। কিভাবে চলবে তাদের সংসার। কে দেখবে এতিম দুই কন্যার ভরন পোষন। কে দেবে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা।
এমন দু:সময়ে বগুড়ার সন্তান হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরের লাশ বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসার সামর্থ টুকুও নাই। বরং ব্যুরো বাংলাদেশ নামের একটি এনজিও তে প্রতি মাসে ঋণের কিস্তি বাবদ ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়।
আরও পড়ুনজাহাঙ্গীরের মামা ফোরকান হামিদ জানান, সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর ধার দেনা করে মালয়েশিয়ায় যান জাহাঙ্গীর। প্রথমে একটি কোম্পানীতে ১০-১৫ হাজার টাকার চাকরি পেয়েছিল। তা দিয়ে তার নিজের থাকা খাওয়া চলতো অতি কষ্টে। ৮ মাস পর অন্য কোম্পানীতে গিয়ে চাকরি নেয়। সেখানে ৭০ হাজার টাকা বেতন পেত। বাড়িতে ৫০-৬০ হাজার টাকা দিত।
তা দিয়ে ধার দেনা শোধ করার পাশাপাশি সংসারের খরচ চলতো। কিছু ঋণ এখনও রয়ে গেছে। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই হার্ট এ্যাটাকে তার মৃত্যু হওয়ায় পরিবারটি নি:স্ব হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় রেমিটেন্স যোদ্ধা জাহাঙ্গীরের লাশ দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছানো এবং অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশের দানশীল ব্যক্তিদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন









