যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসার অনুরোধ নাকচ ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরেও চলমান যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করার খবর নাকচ করেছে ইরান। তবে, যুদ্ধবিরতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারের একজন মধ্যস্থতাকারী মাশহাদ সফর করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা বলেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহেজ নিউজ এজেন্সি। ওই সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘নতুন সামরিক হামলা, অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের তেল রপ্তানির লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি—সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান কেবল পারস্পরিক পদক্ষেপের ভিত্তিতেই নিজেদের প্রতিশ্রম্নতি বাস্তবায়ন করবে।’ বাঘাই জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারী তেহরানের অনুরোধে নয়, নিজ উদ্যোগে ইরান সফরের আবেদন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ করিনি। তবে, আঞ্চলিক একজন মধ্যস্থতাকারীর ইরান সফরের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করিনি।’
তিনি বলেন, মাশহাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কাতারের প্রতিনিধিদের কাছে ইরান তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। বাঘাইয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঙ্গীকার ভঙ্গ’ একটি পুরোনো অভ্যাস। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও তারা আগের ইরানি সরকারকে দায়ী করেছিল। আর এখন বর্তমান সরকারের সঙ্গেও করা সমঝোতা লঙ্ঘন করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র ২২ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার তা লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে নতুন হামলা, মার্কিন ট্রেজারির মাধ্যমে তেল রপ্তানির লাইসেন্স বাতিল এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
আরও পড়ুনবাঘাই বলেন, ‘আমাদের নীতি হলো—প্রতিশ্রম্নতির বিনিময়ে প্রতিশ্রম্নতি। অপর পক্ষ সমপর্যায়ের পদক্ষেপ না নিলে আমরা কোনো প্রতিশ্রম্নতি বাস্তবায়ন করব না। যদি তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং ভবিষ্যতেও এই নীতি অনুসরণ করবে।’
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক








