চরম দুর্ভোগে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক
বগুড়ার শাজাহানপুরে ৩ বছর যাবত বিদ্যালয় মাঠ জলাবদ্ধ : মিলছেনা সমাধান
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের পর থেকে প্রায় ৩ বছর যাবত বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া রহিমাবাদ বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সমস্যার সমাধানের দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য স্থানীয়রা মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
কর্মসূচির জবাবে স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকারি প্রতিষ্ঠান ‘সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) প্রকল্প’র কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করে পানি নিষ্কশনের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অপরদিকে জলাবন্ধতার কারণে দুর্ভোগের বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ (স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকবৃন্দ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েক দফা লিখিতভাবে অবহিত করলেও আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান মিলেনি।
চলতি বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশ, খেলাধূলা কোন কিছুই সম্ভব হচ্ছেনা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বছরে ৭ মাস বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে নিমজ্জিত থাকে।
স্থানীয়রা জানান, পূর্ব থেকেই বিদ্যালয় চত্বরের পানি নিষ্কাশনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বিদ্যালয়ের মাঠ অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় আশপাশ এলাকার পানি স্কুল মাঠে জমে থাকতো। বিদ্যালয়ের পাশে থাকা সরু ড্রেন দিয়ে ধীরে ধীরে জমে থাকা পানি বেরিয়ে যেত।
আরও পড়ুনএমন পরিস্থিতির মধ্যে বিগত ৩ বছর আগে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। সে সময় স্কুলের পাশে থাকা সরু ড্রেনটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।
আড়িয়া বাজার এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মুরাদ কুরাইশী জানান, মহাসড়ক নির্মাণের সময় ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছেনা। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কয়েক বছর যাবত জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছেন। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন জানায়, মাঠে সবসময় পানি জমে থাকে। প্রতিনিয়ত ময়লাযুক্ত নোংরা পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে মন চায়না।
বৃষ্টিপাত বেশি হলে ক্লাসের ভিতরেও নোংরা পানি ঢুকে পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীনা আক্তার জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি গত বছর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ময়লাযুক্ত পানিতে শিক্ষক-অভিভাবকদের চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে। তেমনি শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয় মাঠের নোংরা পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে অনিহা প্রকাশ করছে।
আড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, বিদ্যালয় মাঠের জলাবদ্ধতার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই মাঠ সংস্কার শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান জানান, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে স্থানটি পরিদর্শন পূর্বক দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন







