খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি জমির সুরক্ষা
প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ বড় অসহায়। প্রকৃতিকে পিছনে ফেলে মানুষ সামনে এগোতে পারেনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, অতিবৃষ্টি, ঘণবর্ষা, আবাদি ফসল নষ্ট হওয়া বিভিন্ন কারণে প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের পৃথিবী বদলে গেছে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন ও বৈশ্বিক ক্ষুধা মন্দা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ আমাদের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই অর্থনীতির গতিকে সমৃদ্ধ করতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আবাদি জমি সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বব্যাপী জ্বালানী সংকট ও প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ খাদ্য নিরাপত্তা যে কোনো রাষ্ট্্ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান সরকার জনগণের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে খুবই সচেতন। ৬০-৬৫ বছর আগে এ দেশের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটির মতো। কিন্তু বর্তমান জনসংখ্যা ১৭ কোটির কাছাকছি। আগের মতো প্রকৃতির কোমলীয় রূপ আর নেই। সারা বিশ্বের আবহাওয়া পরিবর্তন হয়েছে। কখনও ঝড়, কখন বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়। সুতরাং প্রকৃতির এই বৈরী আবহাওয়ার মাঝে আমাদের অবস্থান। বাংলাদেশের অবস্থান ভৌগোলিক দিক থেকে কখনো নদী ভাঙনের দিকে, কখনো প্রচন্ড বন্যা, কখনো অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি এক কথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে। ফলে প্রকৃতির এই বৈরীরূপ হিংস্রতা, ফসল হানী, ক্রমাগতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, উৎপাদন হ্রাস, প্রকৃতির এই দুর্যোগ সহ বিভিন্ন কারণে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। আর বাংলাদেশের জন্য এ পরিস্থিতি মোটেই শুভকর নয়। কারণ আমাদের দেশটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ দেশ হিসাবে প্রতিবছর ফসল সহ যানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে আশার কথা এই যে, তবে বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার কৃষি খাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তবুও ভৌগোলিকগত দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা মাথায় রেখে সরকার জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা শুধু বাংলাদেশ নয়, যে কোনো দেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ঘনবসতি দেশ। উপরন্তু অধিক জনসংখ্যা ও ক্রমাগতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা প্রায় প্রতি বছর ২২লাখের অধিক নতুন মুখ যোগ হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ ও আমাদের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক। অনেকটা উর্বর মাটি হওয়ায় প্রতি বছর সাড়ে চার কোটি টনের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন হয়। জনসংখ্যা প্রায় ১৭কোটি। এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের চিন্তা ভাবনায় আছে। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাবে নদী ভাঙন, নগরায়ন, ইটভাটা, শিল্প, কলকারখানা, বাড়িঘর নির্মাণের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর আবাদিজমি অকৃষিতে চলে যাচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার একর বা ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হলেও আবাদি জমি যে হারে কমে যাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে কৃষির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে যা খাদ্য নিরাপত্তা এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে বিশিষ্টজনরা মনে করেন। সুদূর অতীতে দেখা গেছে কৃষি অর্থনীতির মুল ভিত্তি হলেও কৃষির পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে এদেশের মানুষ জীবন জীবিকা নির্বাহ করেছে। কিন্তু আশংকার বিষয় হচ্ছে অধিক জনসংখ্যা বসত বাড়ি নির্মাণ, ইট ভাটা প্রভৃতি কারণে প্রায় প্রতি বছর আবাদী জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তবুও বর্তমান সরকার কৃষিখাতকে অধিক গুরুত্ব দেয় তবুও কৃষিখাত কিছুটা ঝুঁকিতে থাকলেও এদেশের কষ্ট সহিষ্ণু মানুষ টিকে আছে। এ কথা আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষিপণ্য সামগ্রী আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান দিক। তাই জনগণের খাদ্য নিরাপত্তায় আবাদি জমি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুষ্ঠু ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ খুবই জরুরি যাতে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে না পড়ে। যে কোনো রাষ্ট্রে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। কোনো সরকারই জনগণের খাদ্য নিরাপত্তার দায় এড়াতে পারে না। কারণ খাদ্য নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সার্বিক দিক থেকে বলা যায় জনগণের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা সরকারকেই গ্রহণ করতে হয়। কারণ জনগণকে নিয়েই তো সরকার। আর আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাই হচ্ছে জনকল্যাণমূলক। তাই জনগণের সার্বিক কল্যাণই যে কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ। উপরোন্ত বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। তাই আবাদি জমি যেন অকৃষিখাতে চলে না যায় এ বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই নজরদারি আরো বাড়াতে হবে এমন প্রত্যাশা বিশিষ্টজনদের। সাধারণত খাদ্য নিরাপত্তা বলতে আমরা বুঝি, অবাধ খাদ্য সরবরাহ এবং সারা বছর খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতাকে বলা হয় খাদ্য নিরাপত্তা। এদেশের কৃষক সমাজই খাদ্য নিরাপত্তার বড় সহায়ক শক্তি। আবাদী জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে। এজন্য একটি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন, উৎপাদনশীল খাত ছাড়া নিজের বা ক্রয়কৃত কোনো আবাদী জমিতে ভবন নির্মাণ করা যাবে না। এরকম বিধান যদি চালু করে বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে বাংলাদেশ খাদ্য ঝুঁকি থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।
আরও পড়ুনলেখকঃ
মোহাম্মদ নজাবত আলী
সাবেক শিক্ষক-প্রাবন্ধিক
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








