ভিডিও শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৪ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৫৮ পিএম

দুই কলেজের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মামলা

বগুড়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় বসলো ৭ শিক্ষার্থী

বগুড়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় বসলো ৭ শিক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার : ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ ও নিবন্ধন ত্রুটির কারণে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার প্রথম দিন অংশ নিতে না পারা বগুড়ার সাতজন পরীক্ষার্থী অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আজ শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় তারা অংশ নেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বগুড়ার শিবগঞ্জ ও সারিয়াকান্দি থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বাদী হয়ে স্ব স্ব থানায় এই মামলাগুলো করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন ও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সংশোধন কর্তৃপক্ষের (অফিস সহকারী) বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তরিকুল ইসলাম জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে তিনি শিবগঞ্জ থানায় এজাহার করেছেন। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, আমরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একটি এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সঞ্জয় কুমার পাল জানান, চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের সংশোধন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড না পাওয়ায় কেন্দ্রে গিয়েও পরীক্ষায় বসতে পারেনি ৭ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

এর মধ্যে মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ৬ জন শিক্ষার্থী প্রায় দুই মাস আগে খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের কাছে ফরম পূরণের জন্য ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে জমা দেন। কিন্তু ওই কর্মচারী বোর্ডের নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা না দিয়ে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যান। অপরদিকে, চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে কলেজের সংশোধন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণে মারাত্মক ভুলের কারণে প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি।

বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসে। মন্ত্রীর বিশেষ ও কঠোর নির্দেশনায় গতকাল শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড স্থগিত থাকা শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক ফরম পূরণ এবং বিশেষ প্রবেশপত্র ইস্যুর ব্যবস্থা করে। এর ফলে আজ শনিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে অংশ নিতে পেরেছে।

বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুই কলেজের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এই মামলা দুটি করা হয়েছে।

বাদ পড়া বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা ওই শিক্ষার্থীরা কবে দিতে পারবে জানতে চাইলে রমজান আলী আকন্দ জানান, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বোর্ড ব্যবস্থা নিবে কখন কীভাবে তাদের ওই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জে কমছে না হামের প্রকোপ পাঁচ দিনে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৯০

বগুড়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় বসলো ৭ শিক্ষার্থী

সরকার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর : কাজী রফিক এমপি

নাটোরের সিংড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহে বৃদ্ধ বাবা-মার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দায়ে যুবককে কারাদণ্ড

বগুড়ার শেরপুরে মসজিদের পানির মোটর চুরি