ভিডিও বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:১০ এএম

বগুড়ার সোনাতলায় সফল চাষি দম্পতি চাম্পা ও সামছুল

বগুড়ার সোনাতলায় সফল চাষি দম্পতি চাম্পা ও সামছুল

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: এক সময় অভাব-অনটন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। দিনমজুরি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে ৫ সদস্যের সংসারের চাকা ঘোরানোই ছিল দায়। কিন্তু দমে জাননি সোনাতলা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের চাম্পা বেগম ও সামছুল হক দম্পতি। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে বেছে নেন মাটির আশ্রয়। ৪০ শতক জমি বর্গা নিয়ে শুরু করা বেগুন, পটল, কদর ও কলার চাষ। এসব সবজি চাষই আজ তাদের এনে দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য।

কয়েক বছর আগে সামছুল হক যখন সংসারের খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন স্ত্রী চাম্পা বেগম তাকে উদ্বুদ্ধ করেন সবজি চাষে। নিজেদের বড় কোনো পুঁজি ছিল না। অন্যের জমি বর্গা (লীজ) নিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি শুরু করেন এই দম্পতি। প্রথম দিকে বেগুন ও পটল দিয়ে শুরু হলেও, এখন তাদের খেতে শোভা পাচ্ছে বারোমাসি নানা জাতের সবজি।

৪০ শতক জমি বর্গা নিয়ে চাম্পা-সামছুল দম্পতির সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তারা বেগুন, পটল, কদর, কলা, শসা, করলা, ঝিঙে, লাউ এবং বিষমুক্ত লালশাক-পালংশাক চাষ করছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে মাচা তৈরি করে সবজি চাষ করায় ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। খেতের পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারে সবজি পাঠানো-সব কাজই এই দম্পতি একে অপরের হাত ধরে হাসিমুখে করে যাচ্ছেন।

চাষি সামছুল হক বলেন, সবজি চাষে যেমন খাটুনি আছে, তেমনি লাভও ভালো। তিনি আরও বলেন, আগে মানুষের জমিতে কামলা দিয়ে সংসার চলত না। এখন আল্লাহ দিন ফিরাইছে। প্রতি সপ্তাহে খেত থেকে সবজি তুলে পাইকারি বাজারে বিক্রি করি। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে এখন আমাদের ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা অনায়াসে লাভ থাকে।

আরও পড়ুন

চাম্পা বেগম বলেন, অনেকে মনে করে ঘরের বাইরে মহিলারা কাজ করতে পারে না। কিন্তু আমি আমার স্বামীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে কাজ করেছি। আমাদের সংসারে এখন আর কোনো অভাব নেই। নিজেদের উপার্জনে স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দই আলাদা। তার তিন ছেলে বাবা-মার সাথে কৃষি কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

চাম্পা ও সামছুল দম্পতির এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক ও অন্যান্য দম্পতিও এখন বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত আর কঠোর পরিশ্রম কীভাবে একটি পরিবারের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার উদাহরণ এই দম্পতি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, চাম্পা ও সামছুল দম্পতিকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং বিষমুক্ত সবজি চাষের ব্যাপারে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। চাম্পা-সামছুলের এই সবুজ বিপ্লব প্রমাণ করে দিয়েছে-ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার সোনাতলায় সফল চাষি দম্পতি চাম্পা ও সামছুল

সিরাজগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ১

বগুড়ার কাহালুতে বালিকা মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থী দুই বোনের পলায়ন, অত:পর উদ্ধার

নীলফামারীর ডোমারে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

বগুড়ার কাহালুতে গাছের ডাল ভেঙে মাদ্রাসার বিশ্রামাগার বিধ্বস্ত

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ৪ মাদকসেবীর জেল-জরিমানা