ভিডিও বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০২৬ ০৯:২৯ পিএম

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় মাঠ সংকটে ঐতিহ্য হারাচ্ছে ফুটবল

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় মাঠ সংকটে ঐতিহ্য হারাচ্ছে ফুটবল

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলায় প্রয়োজনীয় খেলার মাঠ না থাকায় ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ফুটবল খেলা তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলায় ক্রীড়াঙ্গনও ঝিমিয়ে পড়েছে। একই সাথে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লোকক্রীড়াও আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেট ব্যক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, উপজেলায় খেলাধুলার প্রয়োজনীয় মাঠ না থাকায় যুব সমাজ খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিপথগামী হচ্ছে। তিনি উপজেলায় একটি আধুনিক খেলাধুলার মাঠ বা স্টেডিয়াম স্থাপনের দাবি জানান।

বগুড়া জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে দুপচাঁচিয়া উল্লেখ্য যোগ্য। ব্যাবসা-ব্যানিজ সমাদৃত এই উপজেলায় একসময় খেলাধুলারও বেশ সুনাম ছিল। জিয়ানগর, চামরুল, গুনাহার, গোবিন্দপুর, দুপচাঁচিয়া ও তালোড়া ৬ টি ইউনিয়নসহ দুপচাঁচিয়া ও তালোড়া এই ২ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত দুপচাঁচিয়া উপজেলা। এই উপজেলায় এক সময় মাঠে মাঠে বিভিন্ন খেলাধুলার জোয়ারে ভাসতো। এরমধ্যে ফুটবল ছিল উল্লেখযোগ্য।

ইউনিয়ন আন্ত:ফুটবল, উপজেলা আন্ত:ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্লাব বা সংঘ বিভিন্ন নামে এই ফুটবল খেলার আয়োজন করতো। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে চলতো বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। প্রায় মাসব্যাপী চলতো এই সব খেলা। উৎসব মুখর হয়ে থাকতো এলাকা।

স্থানীয় খেলোয়ারদের সাথে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এমনকি দেশের বাহিরের অনেক কৃতিফুটবল খেলোয়ার এসব খেলায় অংশ নিতো। সেই সময় খেলোয়ারদের কদরও ছিল বেশ। এই উপজেলায় গড়ে উঠা অনেক ফুটবল খেলোয়ার জেলা থেকে শূরু করে রাজধানী ঢাকার বেশ নামী-দামী ক্লাব বা সংঘে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেছিল।

এ ছাড়াও দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে জড়িত হা-ডু-ডু, দাড়িয়া বাঁধা, লাঠি খেলা, গোল্লাছুট সহ বিভিন্ন খেলা পল্লীর ঐতিহ্য লোক ক্রীড়াকে বাঁচিয়ে রাখতো। কিন্তু খেলা-ধুলার প্রয়োজনীয় মাঠ ও পৃষ্ঠ পোষকতার অভাবে এই খেলাধুলা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। উপজেলা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালযের খেলার মাঠটি সদরের খেলোয়াদের একমাত্র মাঠ।

প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় মাঠটির বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এক পশলা বৃষ্টি নামলেই মাঠের গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। সারা মাঠটি কর্দামাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে খেলার এই মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগি হয়ে পড়ে। সরকারি ভাবে খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্থা রয়েছে। এই কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার যিনি পদাধিকার বলে সভাপতি। এই ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমও প্রায় স্থগিত।

আরও পড়ুন

এব্যাপারে ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ইউএনও শাহরুখ খান জানান, উপজেলায় বিভিন্ন খেলা-ধুলা সিডিউলমত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৩ সালে বগুড়ায় জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০২৫ সালে বগুড়ায় জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় রাউন্ডে ট্রাইবেকারে পরাজিত হয়।

এছাড়াও যথাসময়ে উপজেলা কিশোর ফুটবল টুর্নামেন্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি  ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। লোকক্রীড়া বিলুপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবেই পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।

এদিকে উপজেলা ফুটবল একাডেমির সভাপতি মাহমুদুল হক শিপন জানান, উপজেলার মাঠ সংকটের কারণেই ফুটবল খেলার ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে উপজেলার খেলাধুলা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ফলে যুবসমাজ এখন মাদকাসক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেট ব্যক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার উপজেলার খেলাধুলার দীর্ঘদিনের মাঠের সমস্যা বিষয়টি তুলে ধরায় অভিনন্দন জানান।

সেই সাথে উপজেলার বিভিন্ন ক্রীড়ানুরাগীদের সমন্ময়ে একটি কার্যকরি কমিটি গঠন করে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলার পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যবাহী লোকক্রীড়াকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় মাঠ সংকটে ঐতিহ্য হারাচ্ছে ফুটবল

ঢাকার প্রধান সড়কে থেকে সরছে ব্যাটারিচালিত রিকশা

দিনাজপুরে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে ভাগ্যের চাকা বদল উদোক্তাদের

জৈন্তাপুরে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় কম্বলসহ কাভার্ড ভ্যান জব্দ, গ্রেফতার ২

রংপুরে হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার ও লাল গালিচা সংবর্ধনা