ভিডিও শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৬:১৫ বিকাল

ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব

ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব

বল ভাই মাভৈঃ মাভৈঃ! নবযুগ ঐ এল ওই...’–দ্রোহ, প্রেম ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই অভয়বাণীতে আরও একবার মুখরিত হয়ে উঠল ছায়ানট মিলনায়তন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ঠিক সাড়ে ৬টায় ছায়ানট মিলনায়তনে প্রদীপ প্রজ্বালন ও উদ্বোধনী নৃত্যের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে দুই দিনব্যাপী ছায়ানটের ‘নজরুল উৎসব-১৪৩৩’-এর। উৎসবের প্রথম দিনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সপ্তগীতির মালায় গাঁথা নজরুলের স্বদেশবার্তা’।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছায়ানটের শিল্পীরা দলগতভাবে পরিবেশন করেন উদ্বোধনী নৃত্যগীত ‘স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে’। নৃত্য আর সুরের এই মেলবন্ধন মিলনায়তনে এক মায়াবী আবহের সৃষ্টি করে। এরপর স্বাগত কথন নিয়ে মঞ্চে আসেন ছায়ানটের সহসভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল। তিনি বলেন, ‘নজরুল কেবল আনন্দের কবি নন, তিনি আমাদের সংকটের পথপ্রদর্শক। আজকের এই অশান্ত পৃথিবীতে নজরুলের সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।’

প্রথম দিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল কবি নজরুলের দেশপ্রেম ও দ্রোহের বাণী নিয়ে সাজানো একটি অনন্য গীতি-আলেখ্য। বাচিকশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবেশনায় উঠে আসে ১৯২৪ সাল থেকে নজরুলের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল ইতিহাস। এরপর ডালিয়া আহমেদ ও আশরাফুল হাসান বাবু একে একে পাঠ করেন নজরুলের কালজয়ী কবিতা ও গদ্যের অংশবিশেষ। 

ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে যখন গেয়ে ওঠেন ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ কিংবা ‘জাগো অনশন বন্দী ওঠ রে যত’, তখন পুরো মিলনায়তনে করতালি আর উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে যায়। আলেখ্যটিতে আরও একক গান পরিবেশন করেন শ্রাবন্তী ধর, প্রমিতা দে, মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া এবং প্রিয়ন্তু দেব। খায়রুল আনাম শাকিল এবং ডালিয়া আহমেদ নজরুলের ‘অন্তর ন্যাশনাল’ সংগীতের অংশবিশেষের অনুবাদ পড়ে শোনান।

গীতি-আলেখ্য শেষে মঞ্চে আসেন দেশের বরেণ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা। ঐশ্বর্য সমাদ্দার গেয়ে শোনান ‘শ্যামা তন্বী আমি মেঘ-বরণা’। নন্দিতা দাশ দিশার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় আধ্যাত্মিক সুর ‘হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড়’। ইয়াকুব আলী খান পরিবেশন করেন স্মৃতিকাতর গান ‘রহি রহি কেন সে-মুখ পড়ে মনে’। ইয়াসমীন মুশতারী ও প্রিয়াংকা গোপ তাদের চিরচেনা ও নিখুঁত সুরের জাদুতে বুঁদ করে রাখেন শ্রোতাদের।

আরও পড়ুন

গান ছাড়াও একক আবৃত্তি পর্বে আনজুমান আরা পর্ণা পাঠ করেন নজরুলের ‘ফাল্গুনী’ এবং দেওয়ান সাইদুল হাসান শোনান ‘তোমারে পড়িছে মনে’। মাঝে সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয়ের শিল্পীরাও সম্মেলক কণ্ঠে ‘শঙ্কা শূন্য লক্ষ কণ্ঠে’ ও ‘মধু কর মঞ্জীর বাজে’ গান দুটি পরিবেশন করেন।

প্রথম দিনের এই জমকালো আয়োজন শেষ হয় ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে ‘ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে’ এবং ‘তোরা দেখে যা আমিনা’ গানের মধ্য দিয়ে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুদিনের এই সুরের মহোৎসব।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব

রাজশাহীতে ১৫ কেজি গাঁজা ও ২০৫৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫

জনবল নিয়োগ দেবে বিক্রয় ডটকম, ২৫ বছর হলেই আবেদন

জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের যাবতীয় দায়িত্ব নিবে সরকার : আমিনুল হক

বগুড়ার সান্তাহারের মাদক রানী শুটকির জেল-জরিমানা