ফ্রিজে পাকা আম সংরক্ষণের সঠিক উপায়
এখন চলছে আমের মৌসুম। বাজারে গেলে চারদিক ভরে রয়েছে হলুদ পাকা আম। বিভিন্ন জাতের আমে ভরে গেছে বাজার। ব্যাগভর্তি করে আম কিনেও আনছেন। আর এনেই একটা ভুল করে বসছেন। একসঙ্গে কয়েক কেজি আম কিনছেন আর ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। কাঁচা আমের ক্ষেত্রেও অনেকে এ ভুল করে থাকেন। এতে আম টাটকা থাকার বদলে তার স্বাদই নষ্ট হয়ে যায়। আম মজুত করতে হলে তা ফ্রিজে রাখা চলবে না।
কাঁচা ও পাকা আম সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করতে কিছু গাইডলাইন অনুসরণ করা উচিত। পাকা আম ফ্রিজে রাখার আগে পলিথিন বাদ দিয়ে খবরের কাগজ বা মোটা কাগজে মুড়িয়ে নরমাল ফ্রিজে রাখুন। এতে আম ৫ থেকে ৭ দিন ভালো থাকে। আর পাকা আম খোসা ছাড়িয়ে ছোট কিউব বা টুকরো করে নিন। এবার একটি এয়ারটাইট জিপলক ব্যাগে ভরে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। এভাবে ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
পাকা আম ব্লেন্ডারে পেস্ট করে বরফ জমানোর ট্রেতে জমিয়ে রাখুন। কিউবগুলো জমে গেলে বের করে জিপলক ব্যাগে রেখে সারা বছর আমের জুস বা স্মুদি তৈরি করতে পারবেন।
কাঁচা ও পাকা আম সংরক্ষণ করুন সঠিক উপায়ে—
যখন আম হাত দিয়ে টিপলে নরম মনে হবে এবং বোঁটার কাছে মিষ্টি সুগন্ধ পাওয়া যাবে, তখনই সেগুলোকে ফ্রিজে রাখুন। আম পুরোপুরি পেকে গেলে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন। তাহলে আম নষ্ট হবে না এবং কয়েক দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে।
ফ্রিজে পাকা আম রাখলে এর সুগন্ধ ও মিষ্টি স্বাদ একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। আর অনেক সময়ে আমের গঠনও বদলে যায়। আমের টেক্সচারে যে মসৃণ ভাব থাকে, সেটি নষ্ট হয়ে যায়।
আরও পড়ুনসদ্য পাক ধরা আম কিনেছেন। বাড়িতে পাকিয়ে তারপর খাওয়ার প্ল্যান করছেন। সেটি ফ্রিজে রাখলে কোনো দিনও পাকবে না। তাপমাত্রা কম থাকায় আম পাকার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে খোসা হলুদ হলেও আম মিষ্টি হয় না, বরং ভেতরটা শক্তই থেকে যায়।
বরং বাজার থেকে সম্পূর্ণরূপে পাকা আম কিনবেন না। আর কিনলেও সেদিনই খেয়ে ফেলুন। সদ্য পাক ধরেছে এমন আম কিনুন। এতে সংরক্ষণ করা সহজ হয়। আমগুলো কাগজের ব্যাগ বা খবরের কাগজ মুড়ে রাখুন। এতে আম থেকে নির্গত ইথিলিন গ্যাস ফলগুলোকে পাকতে সাহায্য করবে।
আম যেমন ফ্রিজে রাখবেন না, ঠিক তেমনই সূর্যালোক থেকেও দূরে রাখুন। শুকনো জায়গায় রাখতে পারেন। এই ফল ঘরের তাপমাত্রাতেও ভালো থাকবে।
মন্তব্য করুন







