ভিডিও বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৭ মে, ২০২৬, ১১:২৬ দুপুর

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

ভৌগোলিক দূরত্বকে একপাশে সরিয়ে, কেবলই ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অভিন্ন বিশ্বাসের টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আজ বুধবার (২৭ মে) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে, প্রতি বছরের মতো এবারও একদিন আগেই ঈদের অনাবিল আনন্দে মেতে উঠেছেন এসব অঞ্চলের মানুষ। উৎসবমুখর পরিবেশে পশু কোরবানি আর কোলাকুলির মধ্য দিয়ে সকাল থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে ঈদের চিরায়ত আনন্দ।
 
নারায়ণগঞ্জের ২৩ গ্রামে ঈদের আমেজ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামের বাসিন্দারা আজ সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে সকাল থেকেই মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করতে সমবেত হন।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার গিরদাইন পশ্চিমপাড়া, নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়াসহ মোট ২৩টি গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘ বছর ধরে এই রীতি মেনে চলছেন। আজ সকাল ৮টায় গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
 
মসজিদের সভাপতি খন্দকার রিয়াজউদ্দীন মাস্টার জানান, তারা দীর্ঘ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। মুসল্লিরা যাতে সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
 
এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়া এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে পৃথক পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নয়াপুর গ্রামের একটি জামে মসজিদের ইমাম কামরুজ্জামান জানান, ধর্মীয় অনুশাসন ও নিজেদের বিশ্বাস থেকে তারা প্রায় ২০টি পরিবার প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
 
ভোলায় ১০ হাজার অনুসারীর ঈদ উদযাপন : এদিকে ভোলার সাতটি উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে বিভিন্ন দরবারের প্রায় ১০ হাজার অনুসারী আজ বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমুদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় বসবাসরত সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার, সুরেশ্বর দরবার শরীফ, মাইজভান্ডার, আটরশি ও দুদুমিয়া দরবারের অনুসারীরা এই ঈদ পালন করছেন।
 
আজ সকাল সাড়ে ৭টায় ভোলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় বোরহানউদ্দিনের মনিরাম গ্রামের মজনু মিয়া বাড়ির দরজায় মসজিদ প্রাঙ্গণে। এখানে জামাতের ইমামতি করেন মাওলানা সিহাব উদ্দিন। মনিরাম সুরেশ্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে রাসেদুল ইসলাম জানান, আমরা একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালন করি বিষয়টি এমন নয়—ভৌগোলিক কারণে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আমরা একদিন আগেই এটি পালন করি।
 
এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় বোরহানউদ্দিনের মুলাইপত্তন গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা রতন মিয়া। ওই গ্রামের সুরেশ্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে মো. সুমন জানান, তাদের গ্রামে ১ হাজারের বেশি এবং পুরো জেলায় সব দরবার মিলিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার অনুসারী রয়েছেন। নামাজ শেষে তারা নিয়ম অনুযায়ী পশু কোরবানি করছেন।
 
পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন : পটুয়াখালীতে প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হচ্ছে। জেলার ৪টি উপজেলার ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলে আসা এই ধর্মীয় রীতি মেনে আগাম কোরবানির ঈদ পালন করছেন।
 
সকাল ৮টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফে আগাম ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতে ওই অঞ্চলের সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। প্রধান এই ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
 
স্থানীয় সূত্র ও ইতিহাস থেকে জানা যায়, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, বাউফল ও কলাপাড়া উপজেলার ৩৫টি গ্রামের এই বাসিন্দারা মূলত হানাফি মাজহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী। ১৯২৮ সালে এই অঞ্চলের তৎকালীন এক পীর সাহেবের উদ্যোগে সৌদি আরবের চাঁদের হিসাবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্‌যাপনের এই প্রথার সূচনা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ৯৮ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এই নিয়মটি পুরোপুরি মেনে চলছেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় তারা আগাম রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করে আসছেন।
 
এ বিষয়ে বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি জানান, ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পৃথিবীর যেকোনো স্থানে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে, তার ওপর ভিত্তি করে ঈদ উদ্‌যাপন করা বৈধ। তারা মূলত এই ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতিকে ধারণ করেই প্রতিবছর একদিন আগে ঈদ পালন করে আসছেন।
 
এদিকে আগাম ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুসল্লিরা যাতে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় এবং কোরবানি সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
 
২১ জন মুসল্লি নিয়ে গাইবান্ধা ঈদুল আজহা উদযাপন : সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের একাংশের মুসল্লিরা। দেশের প্রচলিত নিয়মের একদিন আগেই এই ঈদ পালনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা ও সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
 
আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামের মধ্যপাড়ার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনের ছাদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ‘সহিহ হাদিস’ সম্প্রদায়ের এই ঈদের নামাজে ইমামতি ও খুৎবা পাঠ করেন হাফেজ রেজওয়ান ইসলাম আকন্দ।
 
সকাল থেকেই এলাকা জুড়ে ছিল মুষলধারে বৃষ্টি। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করেই গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা হেঁটে, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেলে করে তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামের ওই ভবনে জড়ো হন।
 
নির্ধারিত সময়ে শিশুসহ প্রায় ২০-২১ জন মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে তারা চিরাচরিত নিয়মে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা ও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
 
নামাজে অংশ নেওয়া সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রওশনবাগ এলাকার মুসল্লি হারুন মিয়া (৫০), আব্দুল রাজ্জাক (৪৫) ও শাহিন মিয়া (৫৫) জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ করার জন্যই তারা সকালে এখানে এসেছেন। তারা গত ১৬ বছর ধরে এভাবেই মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
 
স্থানীয় তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস সরকার (৬৫) জানান, তাদের গ্রামের প্রায় ৫-৬টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন। নামাজ শেষ করার পর আজই তাদের দুটি পশু কোরবানি করার প্রস্তুতি রয়েছে।
 
এদিকে দেশের প্রচলিত নিয়মের একদিন আগে ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পলাশবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল সেখানে মোতায়েন ছিল।
 
 সাতক্ষীরার ২৩ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন : সারাদেশে যখন ঈদের প্রস্তুতি চলছে, তখন দেশের প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন সাতক্ষীরার অন্তত ২৩টি গ্রামের মানুষ। ঈদের নামাজ, কোরবানি এবং নানামুখী ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সকাল থেকেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো।
 
সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী বাউখোলা জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। এই জামাতে কুশখালী, ইসলামকাটি, গোয়ালচাতর, ভাদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা ও মাহমুদপুরসহ আশপাশের ২৩টি গ্রামের কয়েক হাজার মুসল্লি অংশ নেন।
 
ভোর থেকেই নতুন পোশাক পরিধান করে শিশুসহ সব বয়সী মুসল্লিরা ঈদগাহ ও মসজিদের দিকে রওনা হন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা। এরপরই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে শুরু হয় কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রস্তুতি। অনেক বাড়িতে সকাল থেকেই গরু ও খাসি কোরবানির আমেজ লক্ষ করা গেছে।
 
দূরের গ্রামগুলো থেকেও অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ এই জামাতে শরিক হতে আসেন। কলারোয়া উপজেলার বাসিন্দা আলি হোসেন জানান, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভোরেই রওনা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে জামাতে শামিল হতে পেরে তিনি আনন্দিত। অন্যদিকে খুলনার পাইকগাছা থেকে আসা জিএম হাসান মাহবুব বলেন, চাঁদের হিসাব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ করাকে সঠিক মনে করেন এবং সেই বিশ্বাস থেকেই এখানে নামাজ পড়তে এসেছেন।
 
ঈদের খুতবায় মাওলানা মাহবুবুর রহমান ত্যাগের মহিমা তুলে ধরে বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। একদিন আগে রোজা শুরু করার ধারাবাহিকতাতেই তারা আজ ঈদ উদযাপন করছেন।
 
বাউখোলা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মহব্বত আলী যুক্তি দিয়ে বলেন, সারাবিশ্বে যদি একই দিনে হিজরি নববর্ষ গণনা করা সম্ভব হয়, তবে একই দিনে রোজা ও ঈদ উদযাপন করাও সম্পূর্ণ যৌক্তিক। এছাড়া স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মাওলানা আবু সালেক জানান, তারা গত প্রায় দেড় যুগ ধরে এই নিয়ম মেনে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দুই ঈদ পালন করে আসছেন।
 
ভিন্ন দিনে ঈদ উদযাপনের এই ব্যতিক্রমী রীতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু আলোচনা ও সমালোচনা থাকলেও অংশগ্রহণকারীদের দাবি—তারা সম্পূর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতি থেকেই এই আয়োজন করে থাকেন। একই সঙ্গে তারা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
লক্ষ্মীপুরের ১০ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন : সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্মীপুর জেলার দুটি উপজেলার ১০টি গ্রামে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। সকাল থেকেই গ্রামীণ পরিবেশজুড়ে ছিল ঈদের আমেজ। এসব এলাকার কয়েক হাজার মুসল্লি সকাল সকাল স্থানীয় ঈদগাহ ও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
 
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই আগাম ঈদ উদযাপিত হয়। এর মধ্যে রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বড়া ঘরিয়া, হাটাতিয়া, শরশাই ও কাঞ্চনপুর এবং রায়পুর উপজেলার কলাকোপাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এই ঈদ উৎসবে শামিল হন।
 
ঈদের প্রধান জামাতটি অনুষ্ঠিত হয় বুধবার সকাল ৭টায় রামগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীর টাওয়ার এলাকার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া রামগঞ্জ শাখায়। এই জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। প্রধান জামাত ছাড়াও এলাকার অন্য ঈদগাহ ও খোলা মাঠে পৃথক পৃথক জামাতে মুসল্লিরা অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
 
এলাকাবাসী জানান, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। স্থানীয় মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর অনুসারীরা দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে চন্দ্র মাসের হিসাব এবং সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও তারা অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আগাম ঈদ উদযাপন করলেন।
 
চট্টগ্রামের ৬০ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন : ত্যাগের মহিমা ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষায় উদ্ভাসিত হয়ে বিশ্বজুড়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সামর্থ্যবান মুসলমানেরা এ দিন পশু কোরবানি করে থাকেন। সাধারণত জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এই উৎসব উদযাপিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রায় ৬০টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।
 
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা দীর্ঘ ২৫০ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। জানা যায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে মির্জাখীল গ্রামের বিশিষ্ট সুফি সাধক হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান (রহ.) হানাফি মাজহাবের ফতোয়া অনুযায়ী এই নিয়ম প্রবর্তন করেন। তাঁর ফতোয়া ছিল—পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই ধর্মীয় উৎসব পালন করা যাবে। সেই থেকে দরবারের পীর ও অনুসারীরা এই নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে আসছেন।
 
আজ সকাল থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন উপজেলার ৬০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন। সকালে চন্দনাইশ জাহাঁগিরীয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দরবারে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন পীরজাদা সৈয়্যদ মাওলানা মোহাম্মদ আলী। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
 
মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারী অধ্যুষিত পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী ও ভেল্লাপাড়া; চন্দনাইশের কাঞ্চননগর; সাতকানিয়ার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, গারাঙ্গিয়া ও গাটিয়াডাঙ্গা; লোহাগাড়ার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, চরম্বা ও চুনতি এবং বাঁশখালীর জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, তৈলারদ্বীপ ও কালিপুরসহ ৬০টি গ্রামে আজ ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার দরবার শরিফের অনুসারীরাও আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।
 
ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গে চন্দনাইশের কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক জানান, আমরা পূর্বপুরুষের আমল থেকেই সৌদি আরবের দিনক্ষণ অনুসরণ করে আসছি। সেই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই আজ আমরা ঈদুল আজহা পালন করছি এবং পশু কোরবানি দিচ্ছি।
 
অন্য এক অনুসারী মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, আমাদের দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান (রহ.)-এর ফতোয়া অনুযায়ী আমরা পৃথিবীর যেকোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে উৎসব পালন করি। আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ পালন করছি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ৩১ জন নিহত

লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের উদ্যোগে অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

রাজধানীর নদ্দায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ১২

শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়ায় বিএনপির ৫ দিনের কর্মসূচি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা