জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট
বগুড়ার শাজাহানপুরের সুলতানগঞ্জ হাটে পশুর আমদানি ও বেচাকেনা দুটোই কম
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: ঈদের আর ৫ দিন বাকি। বগুড়ার শাজাহানপুরে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানীর পশুর হাট। আজ শুক্রবার (২২ মে) বগুড়ার অন্যতম কোরবানির পশুর হাট সুলতানগঞ্জে পশুর আমদানী ও বেচাকেনা দুটোই কম ছিল। তবে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানীর পশুর দাম কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেছে। সকালে ভারি বৃষ্টি হওয়ায় গতকাল দুপুর থেকে হাটে গরু ছাগল ওঠা শুরু করে। বিকাল থেকে শুরু হয় বেচাকেনা।
পশু কেনাবেচা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। পৌঁনে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পশু বেচাকেনা চলছিল। প্রতিবছরের মতো এবারও বড় ষাঁড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় তুলনামূলক এসবের দাম একটু বেশি ছিল। তারপরও গত বছরের তুলনায় প্রতিটি পশু শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ কম দামে বেচাকেনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দেশী জাতের ছোট ও মাঝারি ষাঁড় বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকায়। শাহী ওয়াল, পাকিস্তানী, হলেস্টাইন ফ্রিজিয়ান ও শংকর জাতের বড় আকারের ষাঁড় বিক্রি হয়েছে আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকায়। তবে ২৭ মণ ওজনের একটি অস্ট্রেলিয়ান ষাঁড় গরুর দাম হাঁকা হয় ১৫ লাখ টাকা।
তবে ওই ষাঁড়টির দাম ওঠে মাত্র সাড়ে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। অপরদিকে দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি খাসি ছাগল ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং রাম ছাগল ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পশুর হাটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও র্যাবের নজরদারি ছিল। হাটে ছিল জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ এবং ভেটেরিনারী হাসাপতালের অস্থায়ী ক্যাম্প। সতর্কতামূলক মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও ছিল। এ বছর সুলতানগঞ্জ হাটে গরু প্রতি ক্রেতার ১২শ’ ও বিক্রেতার ২শ’ টাকা এবং ছাগল প্রতি ক্রেতার ৭শ’ ও বিক্রেতার ১শ’ টাকা করে হাসিল নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনহাসিল নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের কোন অভিযোগ ছিলনা। বগুড়া শহরের আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি আজ শুক্রবার (২২ মে) সুলতানগঞ্জ হাট থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি দেশী ষাঁড় কিনেন।
পশুর দাম ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে। শফিকুল ইসলাম নামের অপর এক ক্রেতা জানান, পশু রাখার জায়গার অভাব এবং দেখাশোনার ঝামেলা এড়াতে তিনি আগামী সোমবার কোরবানীর পশু কিনবেন। আজ বাজার দেখতে এসেছিলেন।
বগুড়া শহরের মালতীনগর এম.এস ক্লাব মাঠ সংলগ্ন এলাকার খামারি রবিউল করিম জানান, কোরবানী উপলক্ষে তিনি প্রতিবছর গরু মোটাতাজা করে থাকেন। অন্যান্য বছর বিদেশী জাতের বড় আকারের ষাঁড় গরু লালন পালন করলেও এবছর দেশী জাতের ৬টি ষাঁড় গরু মোটাতাজা করেছেন।
কিন্তু পশুর বাজার নিম্নমুখি হওয়ায় তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, গবাদি পশুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খামারিদের যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়, সে তুলনায় পশুর বাজারমূল্য মিলছে না। তাই খামারিদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন







