বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর এলাকায় চুরির হিড়িক, আতঙ্কিত এলাকাবাসী
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : সারিয়াকান্দির পৌর এলাকায় গত কয়েকদিনে অনেকগুলো চুরির ঘটনা ঘটেছে। একরাতে ২টি সোনার দোকান চুরি ও সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজের আলমারি ভেঙে ৪ লক্ষাধিক টাকা চুরিসহ সারিয়াকান্দি থানার পুলিশেরও মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। একসাথে পৌর এলাকায় এতগুলো চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে পৌর এলাকার নয়নতারা মার্কেট এবং প্রেস ক্লাবের সামনের মার্কেটে দুটি স্বর্ণের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। নয়নতারা মার্কেটের মোভা জুয়েলার্সের প্রোপাইটার সুলতান সরকার প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পর দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দোকানে এসে দেখেন সাটারের তালা ভাঙা। চোরেরা এই দোকান থেকে ৩ ভরি স্বর্ণ এবং প্রায় ১৫০ ভরি রুপা চুরি করে নিয়ে যায়। একই রাতে পৌর এলাকার প্রেস ক্লাবের সামনে নির্মাণ জুয়েলার্সেও চুরির ঘটনা ঘটে।
এ দোকানের স্বত্বাাধিকারী লিখন কুমার মন্ডল জানান, তার হিসাব অনুযায়ী ৩ ভরি স্বর্ণ এবং ১০ ভরি রুপা চুরি হয়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজের হিসাবরক্ষকের কক্ষেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
কলেজের হিসাব সহকারী জুয়েল মিয়া জানান, রাতে জানালার রড ভেঙে ভেতরে ঢুকে আলমারির তালা ভেঙে গচ্ছিত ৪ লাখ ২০ হাজার এবং কলেজের ৪৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে গত ৪ মে সারিয়াকান্দি থানার কনস্টেবল সাজু মিয়া (মুন্সি) তার একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল নিয়ে পৌর এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে তার ছেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে যান। এসময় তিনি তার মোটরসাইকেল রেখে পার্শ্ববর্তী জামিয়া সিদ্দিকিয়া এতিমখানা মসজিদে নামাজ পড়তে যান। ফিরে এসে দেখেন তার মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে।
এদিকে গত বছরের ২৭ জুলাই রবিবার পৌর এলাকার সাহাপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রণব কুমার সাহার মেয়ের বিয়ের জন্য গচ্ছিত ২০ ভরি স্বর্ণালংকার দিনে দুপুরে চুরি হয়েছিল। এর ক’দিন পরেই গত বছরের ২৬ অক্টোবর একই গ্রামের পাশের বাড়ির বাদশা মিয়ার ছেলে বর্তমান সারদা একাডেমিতে কর্মরত এসআই নূর আলম নয়নের বাড়িতেও দিনেদুপুরে বাড়িতে চোর ঢুকে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এসব চুরির পৌর এলাকাবাসী দ্রুত চোর শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনভুক্তভোগী লিখন কুমার মন্ডল বলেন, একরাতের ব্যবধানে চোর আমার দোকানের সমস্ত মূলধন চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ক্ষতি পূর্ণ করার সামর্থ্য আমার নেই। আমি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে সারিয়াকান্দি প্রশাসনের কাছে আমরা আবেদন জানাচ্ছি।
সারিয়াকান্দি বণিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফুল বলেন, দোকান দুইটি একেবারেই পৌর এলাকার প্রধান সড়কের সাথে লাগানো। সেখান থেকে কিভাবে চুরি হয়, তা আমাদের বোধগম্য না। আমরা সারিয়াকান্দির ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রতিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চোর শনাক্ত এবং তাদের গ্রেফতার করতে থানার একাধিক পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত চোরদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক

_medium_1778764428.jpg)



_medium_1778761509.jpg)
