বগুড়ার ধুনটে নিজ উপজেলার চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে কোরবানির পশু
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : ধুনটে নিজ উপজেলার চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে কোরবানির পশু। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় কোরবানিযোগ্য ৬৬ হাজার ৩৪০টি পশু প্রস্তুত আছে, যা নিজ উপজেলার চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খামারগুলোতে চলছে কোরবানির পশু লালন-পালন করার কর্মযজ্ঞ। খামার ও গ্রামীণ পরিবারে পালিত এসব পশুর মধ্যে রয়েছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। এ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৬২ হাজার ২৪০টি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ৪ হাজার ১০০টি পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর হাটে পাঠানো সম্ভব হবে।
সরেজমিনে খামার ও প্রান্তিক কৃষকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গরুর গোসল, কাঁচা ঘাস সংগ্রহ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন পশু পালনকারীরা। তবে গো-খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে জানান। এবছর কোরবানিকে সামনে রেখে অনেকেই প্রাকৃতিক ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন ও মোটাতাজাকরণ করেছেন। শেষ সময়ে অতিরিক্ত লাভের আশায় পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরজুড়েই তারা কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেউ ব্যাংক ঋণ নিয়ে, আবার কেউ পারিবারিক সঞ্চয় বিনিয়োগ করে খামার গড়ে তুলেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। প্রতি বস্তায় তিন থেকে চারশ’ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে। ফলে ষাঁড় মোটাতাজাকরণের ব্যয়ও বেড়েছে। সঠিক দামে পশু বিক্রি করতে পারলে লাভের আশা রয়েছে। তবে কোরবানির হাটে ভারতীয় গরু অবাধে ঢুকলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য দাম নাও পেতে পারেন।
আরও পড়ুনবর্তমানে সরিষার খৈল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, গমের ভুসি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ডাবরি ভুসি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা ঘাসের আটি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গো-খাদ্য, ওষুধ ও পরিচর্যা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেকে। এতে গরু পালন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
ধুনট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেহানা খাতুন বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না। খামারিদের উৎসাহ, সরকারি সহযোগিতা এবং নিয়মিত তদারকির কারণে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু উৎপাদন বেড়েছে। পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। অসুস্থ কিংবা ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু যাতে বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।
মন্তব্য করুন

_medium_1778683857.jpg)




_medium_1778682057.jpg)

