বগুড়ার শেরপুরের শেরুয়া-দহপাড়া সড়কের বেহাল দশা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া দহপাড়া গ্রামের একমাত্র সড়কের বেহাল দশায় চরমদুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ২৫ হাজার গ্রামবাসী। দীর্ঘ ১৭ বছর সংস্কারবিহীন পড়ে থাকা সড়কটিতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে জমে থাকছে কাদা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি।
আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাদাপানিতে তলিয়ে থাকা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও রোগীরা। ওই সড়ক দিয়েই এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে। পিচ উঠে গিয়ে কোথাও কোথাও বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে পথচারীদের।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। গ্রামের একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকেও রোগীদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও প্রসূতি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
শেরুয়া দহপাড়া গ্রামের সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে রাস্তাটির কোনো সংস্কার হয়নি। একমাত্র ড্রেন ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ভরে যাওয়ায় ও রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। এছাড়াও রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা মিল চাতালের নোংরা পানি এ রাস্তায় ফেলা হয়। ফলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি চলাচলও আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুনসোহেল, মিলন, সেলিমসহ একাধিক এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেলেও কেন বছরের পর বছর সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে না। জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বছরের পর বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাস্তাটি এলজিইডি’র আওতায় থাকায় যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন









