ভারতের মজুত আছে ৬৯ দিনের অশোধিত তেল ও ৪৫ দিনের এলপিজি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বেই জ্বালানি সংকট দেখা হয়েছে। এই সংকট এশিয়ার দেশগুলোতে আরও বেশি প্রভাব ফেলেছে। কেননা, যুদ্ধের জেরে ইরান কর্তৃক বন্ধ করা হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত তেল-গ্যাসের সিংহভাগই এশিয়ার বাজারে আসে।
এই পরিস্থিতিতে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ ভারতে কত দিনের অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি রয়েছে তা জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।
ভারতের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী দেশের জনগণকে আশ্বাস্ত করে বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংযমী হওয়ার বার্তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি অদূর ভবিষ্যতে দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেবে?
সেই ‘বিভ্রান্তি’ দূর করতে সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি মজুত রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।
মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে দেশে এলপিজি উৎপাদনে জোর দিয়েছে সরকার। বর্তমানে দৈনিক ৫৪ হাজার টন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে ভারতে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘এলপিজি সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই। দেশে ৬৯ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি আর ৪৫ দিনের মতো এলপিজি মজুত রয়েছে।”
আরও পড়ুনপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তায় অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানান হরদীপ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটাকে সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য করা উচিত। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ কমানোর ‘পদক্ষেপ’ নিয়ে ভাবতে শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সোমবার কর্মকর্তারা জানান, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব ভারতের উপর যাতে কম পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব বলেন, ‘‘ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, এলপিজি, পেট্রল, ডিজেল রয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতে যেকোনও ধরনের সঙ্কট এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।’’
সম্প্রতি পর পর দু’দিন জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে দেশবাসীকে বার্তা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তার কথায়, ‘‘বর্তমান সময়ে পেট্রল, ডিজেল, গ্যাস- এসব জিনিস অত্যন্ত সংযমী হয়ে ব্যবহার করতে হবে। যেসব জ্বালানি পণ্য আমরা বিদেশ থেকে আমদানি করি, সেগুলো যেটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। এতে বৈদিশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে এবং যুদ্ধের সংকটের বিরূপ প্রভাবকেও কমানো যাবে।” সূত্র: আনন্দবাজার
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক








