নওগাঁর রাণীনগরে নদীতে পানি বৃদ্ধি তলিয়ে যাচ্ছে ফসল
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে ছোট যমুনা নদীর পানি কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় উঠতি ইরি-বোরো ধান বাদামসহ নানা জাতের শাক সবজি তলিয়ে যাচ্ছে। পাকা ধানগুলো কাটার জন্য উপজেলার কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সাধারণ কৃষকদেরকে তাগাদা দিলেও শ্রমিক সংকট আর বৃষ্টিপাতের কারণে চাষিরা ফসলগুলো ঘরে তুলতে পারছে না। বাদামসহ অন্যান্য ফসলগুলো পরিপক্ক না হওয়ায় নদীর পানির কারণে জমিতেই পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে।
নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও আকাশ ভালো হলেই পানি কমতে শুরু করবে। রোদ-বৃষ্টির মাঝেও ছোট যমুনা নদীর পানি ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে। একই ভাবে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা ১নং স্লুইচ গেটের জলকপাটের নিচ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় স্থানীয় চাষিরা ওই স্লুইচ গেট থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে বাঁধ দিয়ে শতশত বিঘা জমির পাকা ধান রক্ষার চেষ্টা করছে। এ স্লুইচগেটের জলকপাট থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কপাটগুলো ভালোভাবে বসাতে না পারায় নিচ দিয়ে পানি ঢোকা শুরু করলে স্থানীয় চাষিরা ধান রক্ষা করতে স্ব স্ব উদ্যোগে যে যেমন ভাবে পারে ডালি কোদাল নিয়ে ১নং স্লুইচ গেটের অদূরে বাঁধ নির্মাণ করে।
আতাইকুলা গ্রামের চাষি গোলাপ হোসেন জানান, কয়েক দিন বৃষ্টিপাতে আত্রাই এবং নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতাইকুলা ১নং স্লুইচ গেটের নিচ দিয়ে পানি বিলের মধ্যে প্রবেশ করতে শুরু করলে আমরা চাষিরা পাকা ধান রক্ষায় খালের মুখে বাঁধ দেই। আপাতত জমির ধানগুলো রক্ষা হয়েছে। তবে পানির তোড় বেশি থাকায় বাঁধ রক্ষায় রাত-দিন পাহারা দিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুনউপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জাহিদুর রহমান জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের কারণে নওগাঁ ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী এলাকার বিশেষ করে নগর ব্রিজ থেকে হরিশপুর পর্যন্ত পাকা ধান ও বাদামের ক্ষতি হয়েছে। আমরা সবসময় কৃষকদেরকে ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, ১নং স্লুইচ গেটের জলকপাট থাকা সত্ত্বেও বিলের মধ্যে পানি প্রবেশ করছে এমন খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। জলকপাট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভালোভাবে পানি ধরে রাখতে পারছে না। ফলে কপাটের বিভিন্ন সাইড দিয়ে বিলের মধ্যে পানি প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যে জলকপাটগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি। দুই এক দিনের মধ্যে আমি লিখিতভাবে জানাবো। এই সমস্যাগুলো স্থায়ীভাবে সমাধান করা না হলে আগামীতে চাষিরা ধান নিয়ে বিপাকে পড়বে। তবে এ জলকপাট ক্ষতির পিছনে রয়েছে এক শ্রেণির সংঘবদ্ধ মাছ ধরা লোকজন। এখানে কয়েক বার অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জাল জব্দ করা হলেও তাদের অপকর্ম থেমে নেই।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1778154678.jpg)


_medium_1778152362.jpg)




