ঢাকা নিউমার্কেটে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন
মফস্বল ডেস্ক: রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন শাহ নেওয়াজ ছাত্রাবাসের বটতলা এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন (৫৮) নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী রতন নামের এক কিশোর জানায়, টিটন দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিলেন। এমন সময় পেছন থেকে মাস্ক পরিহিত এক যুবক প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছুড়ে। পরে দৌড়ে তার কাছে গিয়ে আরো দুটি গুলি করে। এতে টিটন পড়ে গেলে ওই ব্যক্তি তার সামনে গিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আবারও গুলি করে। এ সময় লোকজন জড়ো হলে ওই দুর্বৃত্ত আরেকটি ফাঁকা গুলি করে দৌড়ে একটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন মূলত ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক। ইমন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বিদেশে পালিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন। তারা দুজনই মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী চক্র হারিছ-জোসেফ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন। টিটনের তৎপরতা ছিল ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায়।
মূলত ইমনের দাপটেই টিটন অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার করেছিল। দুই যুগ কারাবন্দি থাকার পর ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি জামিন পান। কিন্তু আইনি জটিলতায় কারামুক্তি হয়নি। এরপর ২০২৪ সালের শেষ দিকে তিনি কারামুক্ত হন। তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেননি। অনুপস্থিতির কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। টিটনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল টিটন তাদের অন্যতম।
পুলিশ জানায়, টিটন নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে ঢাকার অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে তিনি অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। ২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনশীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যার ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ গতরাতেই ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। পুলিশ জানায়, খুনিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্য কোনো সন্ত্রাসীর সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই হত্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে তাকে কারা হত্যা করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার এসআই শাহাদাত সাংবাদিককে জানান, পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানায় মামলা নেওয়া হবে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিউমার্কেটে এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম সাংবাদিককে জানান, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।
মন্তব্য করুন







_medium_1777400737.jpg)

