মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, প্রেমিক-প্রেমিকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজনকে কুপিয়ে আহতের ঘটনা ঘটেছে। এরই জেরে মাধবদীস্থ প্রেমিকা বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এঘটনায় আহত সাজ্জাদের মা কুহিনূর বেগম বাদী হয়ে ৭ জনের নামসহ অভিযোগ দিয়েছে। আমরা ভোরে অভিযান চালিয়ে শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা থেকে অভিযুক্ত আসামি আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করি এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:০৩ রাত
প্রেমিককে কুপিয়ে প্রেমিকার বাড়ি-ঘরে আগুন, প্রেমিকার ভাই গ্রেপ্তার
প্রেমিককে কুপিয়ে প্রেমিকার বাড়ি-ঘরে আগুন, প্রেমিকার ভাই গ্রেপ্তার
নরসিংদীর মাধবদীতে প্রেমিকার ভাইসহ পরিবারের লোকজনের এলোপাতারি কুপে সাজ্জাত হোসেন (২২) নামের এক প্রেমিক যুবক গুরুত্বর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেমিকা, তার চাচা ও খালার বাড়িতে আগুন দিয়েছে তারই প্রেমিকের স্বজনরা।
গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে নরসিংদীর মাধবদীর খরমুদ্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এঘটনায় অভিযান চালিয়ে প্রেমিকার ভাই আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আহত প্রেমিক সাজ্জাদ হোসেন (২২) পৌর এলাকার খরমুদ্দি মহল্লার মাহতাব মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত প্রেমিকের স্বজন ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই খরমুদ্দি এলাকার যুবক সাজ্জাদের সঙ্গে একই এলাকার আমির হোসেনের কন্যা ফারজানা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলো। সম্প্রতি ফারজানা সাজ্জাদের সঙ্গে পালিয়ে গেলে ফারজানার পরিবার সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। গত রবিবার সকালেও মেয়ে পুনরায় প্রেমিকের কাছে চলে আসলে তাকে আবারও সামাজিকভাবে বাড়িতে নিয়ে যায় পরিবার।
পরে বিকালে প্রেমিকার ভাই, চাচাসহ কতিপয় লোকজন সাজ্জাদকে এলাকার একটি গাড়ি মেরামতের দোকানে বসা থাকা অবস্থায় তারা এলোপাতারি কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাজ্জাদের পরিবারের লোকজন প্রেমিকার নিজ বাড়ি, তার চাচা ও খালাসহ চারটি বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এসময় পরিবারের অন্যান্য লোকজন ছুটোছুটি করে আত্মরক্ষা করে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে বাঁধাগ্রস্থ করায় পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায় ঘরের আসবাপত্রসহ যাবতীয় সরঞ্জাম।
আরও পড়ুনআহতের মা কুহিনূর বেগম বলেন, তারা দুইজনকে পছন্দ করে। মেয়ে কয়েকবার পালিয়ে ছেলের কাছে চলে আসলে সামাজিকভাবে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সাজ্জাদকে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করেছে। বাঁচবে কিনা জানিনা। আমরা এঘটনার বিচার চাই।
মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. রায়হান জানান, খবর পেলেও স্থানীয় লোকজনের বাঁধায় অগ্নি নির্বাপন কাজে সময়মত অংশ নিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ফলে ৪টি বাড়ির প্রায় সব কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আমরা দুইটি ইউনিট ধৈর্য ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি যেনো আশেপাশের কোন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক

_medium_1777297712.jpg)
_medium_1777297474.jpg)


_medium_1777295913.jpg)

