ভিডিও শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল

কালি দিয়ে আঙুলে দাগ করে দিত মা, আমি ভাবতাম ভোট দিয়েছি: ইন্দ্রাণী

কালি দিয়ে আঙুলে দাগ করে দিত মা, আমি ভাবতাম ভোট দিয়েছি: ইন্দ্রাণী

ছোটবেলার ভোট নিয়ে এক অনন্য স্মৃতিচারণা শোনালেন অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার। তার কথায় উঠে এল শৈশব, পরিবারের সঙ্গে কাটানো নির্বাচনী দিন এবং রাজনীতির সঙ্গে তার প্রথম পরিচয়ের আবেগঘন গল্প। ছোটবেলার সেই স্মৃতি আজও তার মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে।
 
ইন্দ্রাণী হালদার জানান, ভোট তার কাছে সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জীবনে একবারও তিনি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেননি। তবে শৈশবে ভোটাধিকার না থাকলেও বড়দের হাতে কালির দাগ দেখেই তার মনে হতো, কেন তার হাতে সেই দাগ নেই। সেই সময় তার শিশুসুলভ আবদার ছিল, তাকেও যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
অভিনেত্রীর কথায়, ছোটবেলায় তার মা স্নেহভরে দোয়াতের নীল কালি দিয়ে আঙুলে দাগ এঁকে দিতেন। তখন তাকে বলা হতো, এই দাগই তার ভোট দেওয়ার প্রতীক। সেই ভ্রান্ত বিশ্বাসেই তিনি ভীষণ আনন্দ পেতেন। তার কাছে সেটাই ছিল প্রথম ভোটের অনুভূতি।
 
প্রথমবার সত্যিকারের ভোট দেওয়ার দিনটিও তার কাছে বিশেষ ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আঙুলে সেই কালি পড়ার মুহূর্তে তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে অনুভব করেছিলেন। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া, পরিবারের বড়দের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সব মিলিয়ে সেটি ছিল তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ইন্দ্রাণী হালদার আরও জানান, তার পরিবারে রাজনৈতিক আলোচনা হতো নিয়মিত। বাবা ও পরিবারের বড়দের মতামতের প্রভাব থাকলেও তাকে কখনও জোর করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের ভাবনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও পেয়েছেন।
 
তিনি স্মৃতিচারণায় বলেন, ভোটের দিনটি তাদের কাছে অনেকটা উৎসবের মতো ছিল। আগে থেকেই ঘরে প্রস্তুতি চলত, ভোট দিয়ে ফিরে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করতেন। সেই দিনগুলোর সহজ আনন্দ আজও তার কাছে অমূল্য।
 
নিউ আলিপুর এলাকায় তার শৈশব কেটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ভোটের পরিবেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ ছিল। কোনো ধরনের অশান্তি তিনি কখনও দেখেননি। তবে সময়ের সঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কড়াকড়ি ও নিয়ম অনেক বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, বহুদিন পর মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা, কথা বলা এবং প্রচারের অভিজ্ঞতা তার কাছে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়ার মতো ছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও এবার তিনি ধীরে ধীরে কাজের জগতে ফিরছেন।
 
সব মিলিয়ে ইন্দ্রাণী হালদারের এই স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে একদিকে শৈশবের নির্মল আনন্দ, অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতা।
 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেশি খেলেও কেন ওজন বাড়ে না 

কালি দিয়ে আঙুলে দাগ করে দিত মা, আমি ভাবতাম ভোট দিয়েছি: ইন্দ্রাণী

কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪টি ইউনিট বন্ধ

ইরানের জন্য ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে’: ট্রাম্প

কোটালীপাড়ায় ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আটক করে গণধোলাই

ভারতকে ‘নোংরা জায়গা’ বললেন ট্রাম্প, কঠোর প্রতিক্রিয়া নয়াদিল্লির