ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ঈদুল ফিতরের সময় যান চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ডিএমপি এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক ও যাত্রীদের জন্য একাধিক নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তঃজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী নিয়ে সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে হবে।
কোনো অবস্থাতেই টার্মিনালের বাইরে সড়কের ওপর বাস দাঁড় করানো যাবে না। অনুমোদিত বাস কাউন্টার বা স্টপেজ ছাড়া রাস্তায় যাত্রী ওঠানামা করানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সড়কে কোনোভাবেই বাস পার্কিং করা যাবে না।
ডিএমপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) বাস সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে সরাসরি নির্ধারিত বিভাগের জেলাগুলোতে যাবে এবং কোনো অবস্থাতেই ঢাকা মহানগর অতিক্রম করতে পারবে না।
যেমন—কল্যাণপুর ও গাবতলী ডিপো থেকে বাস সরাসরি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিকে যাবে, আর ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর ডিপো থেকে বাস সরাসরি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উদ্দেশে চলাচল করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাস নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে ছাড়তে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না। একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা, বাসের ছাদে যাত্রী বহন, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চালকদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং নিষিদ্ধ এলাকায় ওভারটেকিং করা যাবে না।
নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব বা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। বাস চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার এবং বাসে উচ্চস্বরে গান বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
এছাড়া উল্টো পথে বাস চালানো যাবে না এবং মালিকপক্ষকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করে চালক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো চালককে একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না।
ফিটনেসবিহীন বা যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত এবং অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী গাড়ি রাস্তায় নামানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
যাত্রী ও পথচারীদের জন্যও কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। সড়কে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে বলা হয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা এবং ভ্রমণকালে মালামাল নিজের দায়িত্বে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাসের নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনাল বা কাউন্টারে উপস্থিত থাকা, রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করা এবং চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা দৌড়ে রাস্তা পারাপার না করা এবং ফুটপাত ব্যবহার করে চলাচলের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যাবে।
ডিএমপি জানায়, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সাধারণত প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ ঢাকা মহানগর ত্যাগ করেন এবং প্রায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ অন্য এলাকা থেকে রাজধানীতে প্রবেশ করেন। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।