ভিডিও শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:৩৭ রাত

নাটোরের লালপুরে লোকসানে এক বছরে কাটা হয়েছে ১শ’ বিঘা জমির আমবাগান 

নাটোরের লালপুরে লোকসানে এক বছরে কাটা হয়েছে ১শ’ বিঘা জমির আমবাগান 

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে গত মৌসুমে হেক্টর প্রতি আমের ফলন হয়েছিলো ১২.০৭ মেট্রিক টন। আমের ফলন ভালো হলেও সংরক্ষণ সুবিধার অভাব, বাজার অব্যবস্থাপনা ও উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানি না হওয়ায় গত ৫বছর ধরে লোকসান গুনছে আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর লোকসানে আম চাষ থেকে মুখ ফিরেয়ে নিচ্ছে এখানকার আম বাগান মালিকরা। কৃষকরা বলছেন, এক বছরের কাটা হয়েছে অন্তত ১শ’ বিঘা বিভিন্ন জাতের আমবাগান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা, হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলা না হলে এবং উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ না করলে কৃষকের এই লোকসান দিন দিন বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, গত মৌসুমে লালপুরে আমের বাগান ছিলো ১ হাজার ৮১০ হেক্টর। বর্তমানে তা কমে হয়েছে ১ হাজার ৮০৫ হেক্টর। ৫ হেক্টর পুরাতন আমবাগান কর্তন হয়েছে। গত মৌসুমে হেক্টর প্রতি আমের উৎপাদন হয়েছিলো ১২.৭ মেট্রিকটন হারে ২২ হাজার ৯২৩ মেট্রিকটন। যা ৩৫ টাকা কেজি দরে ৮০ কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৫শ’ টাকা বিক্রয় হয়েছিলো।

স্থানীয় আম চাষিরা অভিযোগ করে বলছেন, কয়েকবছর যাবত আম চাষে লোকসানের কারণে আম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এখনকার আমচাষিরা। এবছরে অন্তত ১শ’-১৫০ বিঘা আমের বাগান কেটে ফেলেছে আমচাষিরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগ অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের কাঁচা আম সংরক্ষণ না করা ও ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য স্বল্পমেয়াদী পাকা আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর উৎপাদিত আমের এক তৃতীয়াংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষক লোকসান গুনছেন।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে সঠিক বাজারজাতকরণ, মূল্য নির্ধারণ না করায় ও বাজার মনিটরিং এর ঘাটতি থাকায় আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীরা দাম নিয়ন্ত্রণ করে লাভ তুলছেন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। তাই কাঁচা আম সংরক্ষণ ও ক্ষুদ্র কৃষক পর্যায়ে স্বল্পমেয়াদী পাকা আম সংরক্ষণের ব্যবস্থাকরা। বাজার মনিটরিং, দাম নির্ধারণ ও একই সাথে সরকারিভাবে কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আগাম ও নাবী জাতের রপ্তানি যোগ্য আম চাষে উৎসাহিত করার প্রয়োজন।

ওয়ালিয়া গ্রামের আম চাষি শফিকুল ইসলামের ৫ বিঘা হাড়িভাঙা আমের বাগান আছে। তার ভাষ্য, আম চাষে লোকসানে অন্যতম কারণ হলো বাজার অব্যবস্থাপনা, আম সংরক্ষণের সুবিধা না থাকা ও বিদেশে রাপ্তানি না হওয়া।

যখন আম পাকে তখন বাজারে চাহিদা কম থাকায় ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায়, উৎপাদিত আম সংরক্ষণের ও বিদেশে আম রপ্তানির ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রয় করতে হয়। এতে আমের পরিচর্যা খরচই উঠে না। যার কারণে আম বিক্রয় করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, যে বাগানগুলো কর্তন করা হচ্ছে সেগুলো পুরাতন আম বাগান যেমন, লক্ষণভোগ বা লকনা জাতের আমের বাগান। বিদেশে আম রাপ্তানির লক্ষ্যে লালপুর উপজেলায় গত ২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত মোট প্রায় ৬ হেক্টর রপ্তানিযোগ্য নতুন জাতের আম বারি আম-৪, কার্টিমন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, বারি আম-৩ বা আম্রপালি বাগান সৃজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হরমুজ খুললেও ইরানের বন্দর অবরোধ থাকবে: ট্রাম্প

হারের পর মিরাজ বললেন, ‘মাঝে মাঝে এমনটা হতেই পারে’

হজযাত্রীদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সকালের মধ্যেই দেশের ৫ জেলায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কা

জ্বালানি-সংকটে চট্টগ্রামে বন্ধ ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র

লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে হাসনাত আবদুল্লাহর মোমবাতি বিতরণ