ভিডিও সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:৫৯ রাত

ছায়া মন্ত্রিসভা কী? সহজ ব্যাখ্যা দিলেন ডা. তাসনিম জারা

ছায়া মন্ত্রিসভা কী? সহজ ব্যাখ্যা দিলেন ডা. তাসনিম জারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের লড়াই শেষ হওয়ার পর শপথ নিতে চলেছে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ। এরই মধ্যে উঠে এসেছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ নিয়ে আলোচনা। এবার ছায়া মন্ত্রিসভা (shadow cabinet) আসলে কী? ছায়া মন্ত্রীরা কি সরকারি বেতন পান? তাদের কাজ কী?

এ বিষয়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা।  পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদের দেশে রাজনীতি মানেই মিছিল-মিটিং, অবরোধ আর নির্বাচন।

নির্বাচনের পর বিজয়ী দল ক্ষমতায় যায়, আর পরাজিত দল নেমে আসে রাজপথে। কিন্তু ছায়া মন্ত্রিসভা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এই ‘রাস্তা অচল করার’ রাজনীতির সংস্কৃতি বদলে দেওয়া সম্ভব।”

ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী?

সরকারে যেমন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে মন্ত্রী থাকেন (যেমন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী), বিরোধী দলও ঠিক তেমনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী নিয়োগ দেয়। সরকার কোনো ভুল করলে বা ব্যর্থ হলে ছায়া মন্ত্রী তার সমালোচনা করেন এবং বিকল্প সমাধান উপস্থাপন করেন।

ছায়া মন্ত্রীরা কি সরকারি বেতন বা সুবিধা পান?

না। ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরকার থেকে কোনো বেতন, গাড়ি বা সরকারি সুবিধা পান না। এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব। তবে এটি জনগণের কাছে নিজেদের যোগ্যতা ও প্রস্তুতি তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ।

ছায়া মন্ত্রিসভা কেন প্রয়োজন?

যখন কোনো মন্ত্রী জানেন যে তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করার জন্য বিপরীতে একজন দক্ষ ছায়া মন্ত্রী এবং গবেষক দল রয়েছে, তখন তিনি ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এতে রাজপথকেন্দ্রিক পেশিশক্তির রাজনীতি কমে নীতিনির্ভর (পলিসিভিত্তিক) রাজনীতি গড়ে উঠতে পারে।

একজন ভালো ছায়া মন্ত্রী হতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও গবেষণার দক্ষতা থাকতে হয়। এতে রাজনীতিতে মারামারির বদলে মেধা ও ধারণার (আইডিয়ার) প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে—কে কত ভালোভাবে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে মূল প্রতিযোগিতা।

এটি কিভাবে পেশিশক্তির বদলে নীতিনির্ভর রাজনীতি আনতে পারে?

আরও পড়ুন

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতার শক্তি মাপা হয় তার মিছিলের আকার বা স্লোগানের জোর দিয়ে।

কিন্তু ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর হলে মাপকাঠি হবে যোগ্যতা ও নীতিগত দক্ষতা।

উদাহরণস্বরূপ, একজন ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতে হবে। একজন ছায়া অর্থমন্ত্রীকে বাজেটের বিস্তারিত বিশ্লেষণ জানতেই হবে। এতে জনগণ দেখতে পাবে—কার কাছে বাস্তবসম্মত ও উন্নত সমাধান আছে।

ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর করার শর্ত কী?

এটি তখনই কার্যকর হবে, যখন ছায়া মন্ত্রীরা কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে গঠনমূলক সমাধান দেবেন। যদি ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু নামমাত্র থাকে এবং গবেষণা বা তথ্যভিত্তিক কাজ না করে, তবে এর কোনো বাস্তব সুফল মিলবে না।

ছায়া মন্ত্রীরা যদি কেবল টেলিভিশনের টক শোতে উপস্থিত হওয়ার জন্য এই পদ ব্যবহার করেন, কিন্তু মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে মনোযোগ না দেন, তবে এই মডেল ব্যর্থ হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় কিশোর আলিফ হত্যার ঘটনায় মূল ঘাতক গ্রেফতার

জুলাই সনদে সই করেছে এনসিপি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে পুড়ল কৃষকের তিনটি খড়ের পালা

ছায়া মন্ত্রিসভা কী? সহজ ব্যাখ্যা দিলেন ডা. তাসনিম জারা

কবে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান? যেভাবে দেখা হয় নতুন চাঁদ

এখন আমার যাওয়ার পালা: প্রধান উপদেষ্টা