একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। বিসিবির একাধিক কমিটি, আম্পায়ার ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের পারিশ্রমিক নিয়ে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে বোর্ডকে। তার লাগামহীন এসব মন্তব্যে ফুঁসছে ক্রিকেটাঙ্গন। আম্পায়ার, ক্রিকেটার ও সাবেক সংগঠক অনেকেই প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছেন।
আম্পায়ারদের বেতন নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবারও বিতর্কে বিসিবির নাজমুল
নাজমুল ইসলামের সঙ্গে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও ক্রিকেটারদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছিলেন তিনি। এবার নতুন করে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সরঞ্জাম কেনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই পরিচালক। বিসিবির সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন। লাগামহীন বক্তব্যের পেছনে অযোগ্য নেতৃত্বকেই দায়ী করেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।
নাজমুল ইসলামের মতো পরিচালকদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় বিসিবি সভাপতির কাঁধেই বর্তায় বলে মনে করেন এই সাবেক পরিচালক। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট খেলা আর ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা এক বিষয় নয়।
নাজমুলের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ আম্পায়াররাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক সিনিয়র আম্পায়ার বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের আম্পায়ারদের বেতন-ভাতা এখনও কম। সামান্য বাড়ানো হয়েছে, সেটি নিয়েই তার আপত্তি। সব বিষয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন কেন? এসব দেখভালের জন্য তো আলাদা আম্পায়ার্স কমিটি রয়েছে। সভাপতি হিসেবে এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারাটাই হতাশাজনক।’
আরও পড়ুননাজমুলের এমন মন্তব্যে আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘তিনি কি আদৌ বোঝেন তিনি কী বলছেন? ২ হাজার ৫০০ ডলার আসলে কত টাকা, সেটাই তিনি জানেন না। বিশ্বের সেরা ১০ জন আম্পায়ারের একজন বাংলাদেশের এলিট প্যানেল আম্পায়ার। তাকে আপনি কত দেবেন? ২০০ টাকা?’
ক্রিকেটাঙ্গনে নাজমুল ইসলাম পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘কোকোনাট নাজমুল’ নামে। ক্রিকেটারদের জন্য নারকেল বরাদ্দকে ‘অতিরিক্ত খরচ’ আখ্যা দিয়ে আগেও বিতর্ক জড়ান তিনি। এবার আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য করে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজমুল বলেন, ‘দুই বছর আগে আম্পায়ারের ম্যাচ ফি ছিল ৭০০ ডলার, এখন তা ২ হাজার ডলার হয়েছে। এই ধরনের বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। বাড়ানো যেতে পারে, তবে সেটারও একটি সীমা থাকা উচিত।’
এখানেই থামেননি তিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সরঞ্জাম কেনা নিয়েও প্রশ্ন তুলে নাজমুল বলেন, ‘একটি জুতার দাম ৩০ হাজার টাকা দেখানো হচ্ছে। এই টাকা সত্যিই খরচ হয়েছে, নাকি সরাসরি দেওয়া হয়েছে, আমি জানি না। তবে বোর্ডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।’
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








