আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে মিত্রদের থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ম্যাক্রোঁ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ও তার কিছু দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে বার্ষিক ভাষণে এসব কথা বলেন ম্যাক্রোঁ।
তার এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে আটক ও গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এরই মধ্যে ইউরোপীয় শক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক পশ্চিম গোলার্ধভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে হিমশিম খাচ্ছে।
এলিসি প্রাসাদে রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে ম্যাক্রোঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রতিষ্ঠিত শক্তি, কিন্তু এটি ধীরে ধীরে তার কিছু মিত্রের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে এবং এমন আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙে বেরিয়ে যাচ্ছে, যেগুলো সে নিজেই অল্প সময় আগেও সমর্থন করত।
তিনি আরও বলেন, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই কম কার্যকর হয়ে পড়ছে। আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে বিশ্বকে ভাগ করে নেওয়ার প্রবল প্রলোভন কাজ করছে।
ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্য আসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পরপরই। গত শনিবার মার্কিন বিশেষ বাহিনী হঠাৎ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। এই অভিযানের পর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
আরও পড়ুনভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের পর ইউরোপে আরও উদ্বেগ ছড়ায়, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন যে তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক দ্বীপ দখলে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা তিনি বারবার নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকারী দেশ ডেনমার্কসহ ইউরোপের বহু পুরোনো মিত্রদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে। কোপেনহেগেন সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো হামলা হলে ন্যাটো জোটের অবসান ঘটতে পারে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, এমন এক সময়ে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যখন প্রতিদিন মানুষ ভাবছে গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের শিকার হবে কি না কিংবা কানাডা কি ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার হুমকির মুখে পড়বে কি না। তিনি বলেন, এটাই জাতিসংঘে পূর্ণভাবে পুনরায় বিনিয়োগ করার সঠিক সময়, বিশেষ করে যখন আমরা দেখছি এর সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার আর এতে বিশ্বাস রাখছে না।
এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি বৈশ্বিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে সরে যাচ্ছে, যার প্রায় অর্ধেকই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট। এসব সংস্থা ও চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউরোপকে অবশ্যই নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে এবং প্রযুক্তি খাতে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার আহ্বান জানান। তিনি একাডেমিক স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন ও এমন একটি ‘নিয়ন্ত্রিত তথ্যপরিসরের’ প্রশংসা করেন, যেখানে মতামত পুরোপুরি স্বাধীনভাবে আদান-প্রদান করা যাবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ কয়েকটি কোম্পানির অ্যালগরিদমের হাতে বন্দি থাকবে না।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক







_medium_1767891423.jpg)
_medium_1767889152.jpg)