শীত আরও বাড়ার শঙ্কা
বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে এক অঙ্কের ঘরে
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়াসহ দেশের উত্তরের ৮টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টানা কয়েক দিন সূর্যের দেখা না মেলা, ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের দাপট চরম আকার ধারণ করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই শৈত্য প্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এদিকে শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে যেমন হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তেমন কৃষির ক্ষতি হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী উত্তরের বগুড়া, রাজশাহী, পাবনার ঈশ্বরদী, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া নীলফামারীর ডিমলার ওপর দিয়ে শৈত্য প্রবাহ সক্রিয় রয়েছে। এসব এলাকায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত দুইদিন থেকে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা এক অঙ্কের ঘরে নেমে ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শুধু উত্তরের নয় দক্ষিণাঞ্চলেরও কিছু জেলায় তাপমাত্রা এক অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে। এর মধ্যে যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অন্যতম। দিনের বেলায়ও তাপমাত্রা খুব একটা বাড়ছে না, কারণ সূর্যের অনুপস্থিতিতে ঠান্ডা বাতাস আরও বেশি কনকনে অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো রাজশাহীতে। ওই জেলায় মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ এবং সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বগুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৯ এবং সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৫ এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৫ এবং সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া রংপুর বিভাগের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়। ওই উপজেলায় সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৬ এবং সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুরে সর্বনিম্ন ৯ এবং সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৮, নীলফামারীর ডিমলায় সর্বনিম্ন ৯ এবং সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৩ এবং সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন ১০ এবং সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আরও পড়ুনএছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। ওই জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ এবং সর্বোচ্চ ১৫ রেকর্ড করা হয়েছে। যশোর জেলায় সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ২ এবং সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৮ এবং কুমারখালীতে সর্বনিম্ন ১০ এবং সর্বোচ্চ ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
শৈত্য প্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও কৃষি শ্রমিকরা। ভোরের কনকনে ঠান্ডায় কাজে বের হতে না পারায় অনেকের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে খড় ও খোলা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন মানুষ।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশিদ আলম জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার শীতের প্রকোপ বেশি।
তাই শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি কাশি, জ¦রসহ প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০জন ভর্তি হচ্ছেন। কেউ কেউ হাসপাতালের বর্হিবিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এছাড়া শীতে হৃদরোগসহ ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দেয়। তাই যেসব বাড়িতে হৃরোগী, বয়স্ক ও শিশু রয়েছেন তাদের জন্য বাড়তি যত্ন নিতে হবে।
দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা ও শীত বোরো ধানের বীজতলা, আলু ও শীতকালীন সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলে শৈত্য প্রবাহ আরও বিস্তৃত হতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


_medium_1767799456.jpg)



