ভিডিও সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৩২ বিকাল

গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই: ট্রাম্প

সংগৃহিত,গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গ্রিনল্যান্ড দখল করা নিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কড়া সতর্কবার্তার পরপরই দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৫ জানুয়ারি) তিনি ফের দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবে।

এর আগেও একাধিকবার ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার সম্ভাবনার কথা তুলেছেন ট্রাম্প। তিনি বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান, প্রতিরক্ষা গুরুত্ব ও বিপুল খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে এই দাবি করে আসছেন। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে, যা ডেনমার্কে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন যথেষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে গ্রিনল্যান্ড যাওয়ার ধারণাকে তিনি ‘একটি কল্পনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কোনো চাপ নয়, আর কোনো ইঙ্গিত নয়। সংযুক্তির কোনো কল্পনাও নয়। আমরা সংলাপের জন্য উন্মুক্ত, আমরা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু তা অবশ্যই সঠিক চ্যানেলের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান রেখে হতে হবে।

এর আগে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছিলেন, ড্যানিশ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত তিনটি দেশের কোনো একটিকেও যুক্তরাষ্ট্রের সংযুক্ত করার অধিকার নেই। তিনি আরও বলেন, ডেনমার্কের সূত্রেই গ্রিনল্যান্ড ন্যাটো সদস্য ও জোটের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দেওয়া একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি আগেই কার্যকর রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্য দেন ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলারের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর। ওই পোস্টে কেটি মিলার গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে রাঙিয়ে ‘শিগগিরই’ শব্দটি লিখেছিলেন।

এই পোস্টের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ স্মরণ করিয়ে একটি বার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক মিত্র দেশ এবং ডেনমার্ক তার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করে। কেটি মিলার একজন ডানপন্থি পডকাস্টার ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার সহকারী হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

আরও পড়ুন

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ওই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’ ও মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।

এই পরিস্থিতি নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। এর আগে ট্রাম্প এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে দেশটির নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা পাবে, কারণ আর্কটিক অঞ্চলের এই বিশাল দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে।

প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে। তবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের হাতে রয়েছে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চান, তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে- যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে ব্যাপক ও দৃঢ় বিরোধিতা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই: ট্রাম্প

যুক্তরাজ্যে দিনের বেলায় টিভিতে এবং অনলাইনে জাংক ফুডের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ  

বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোকবার্তা হস্তান্তর

সুরভীর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি, সে দ্রুত প্রতিকার পাবে: আসিফ নজরুল

মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন প্রতিরোধে হটলাইন চালু করল সরকার  

তারেক রহমানের সঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক