গুগল জেমিনিতে টেক্সট কমান্ডেই তৈরি করুন দুর্দান্ত ছবি ও ভিডিও
আইটি ডেস্ক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভাবনীয় অগ্রযাত্রায় গুগল জেমিনি এখন আর সাধারণ চ্যাটবট বা তথ্য অনুসন্ধানের টুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যবহারকারীর কল্পনাকে নিমিষেই বাস্তবে রূপ দিতে এটি হয়ে উঠেছে এক শক্তিশালী 'ক্রিয়েটিভ পার্টনার', যার মাধ্যমে কোনো গ্রাফিক ডিজাইনিং বা ভিডিও এডিটিং দক্ষতা ছাড়াই কেবল টেক্সট কমান্ড দিয়ে তৈরি করা সম্ভব হাই-কোয়ালিটি ছবি এবং সিনেমাটিক ভিডিও।
প্রযুক্তি এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। গুগলের অ্যাডভান্সড ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল জেমিনি তার সক্ষমতাকে টেক্সট জেনারেশন থেকে ভিজ্যুয়াল আর্টে উন্নীত করেছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী সবার জন্যই এটি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই প্রযুক্তির মূল চাবিকাঠি হলো 'প্রম্পট' বা নির্দেশনা। আপনি যত নিখুঁতভাবে আপনার কল্পনার বর্ণনা দিতে পারবেন, জেমিনি ঠিক ততটাই নিখুঁত ফলাফল আপনার সামনে হাজির করবে।
ছবি তৈরির প্রক্রিয়া ও কৌশল:
জেমিনি ব্যবহার করে ছবি তৈরি করা এখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার মাত্র। এর জন্য প্রথমেই জেমিনি ওয়েব পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপে প্রবেশ করতে হবে। এরপর চ্যাটবক্সে আপনি যা দেখতে চান, তার বিস্তারিত বিবরণ লিখতে হবে। একেই বলা হয় প্রম্পট। উদাহরণস্বরূপ, কেবল 'একটি বিড়াল' না লিখে যদি লেখেন, "মহাকাশে নীল রঙের স্পেসস্যুট পরা একটি বিড়াল ভেসে বেড়াচ্ছে, ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকবে উজ্জ্বল নক্ষত্রমণ্ডল এবং এটি হবে সিনেমাটিক স্টাইলের" তবে ফলাফলটি হবে বিস্ময়কর।
প্রম্পট লেখার সময় লাইটিং, আর্ট স্টাইল (যেমন: অয়েল পেইন্টিং, স্কেচ বা ফটোরিয়ালিস্টিক) এবং কালার গ্রেডিংয়ের উল্লেখ থাকলে ছবি আরও পেশাদার হয়। কমান্ড দেওয়ার পর জেমিনি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনাকে কয়েকটি ভ্যারিয়েশন বা বিকল্প ছবি তৈরি করে দেবে। এখানেই শেষ নয়, যদি কোনো ছবিতে সামান্য পরিবর্তন দরকার হয়, যেমন 'বিড়ালের মাথায় একটি লাল হ্যাট পরিয়ে দাও', তবে নতুন করে পুরো প্রম্পট না লিখে কেবল এই নির্দেশনা দিলেই জেমিনি ছবিটি এডিট করে দেবে।
আরও পড়ুন
ভিডিও তৈরিতে জেমিনির চমক:
ছবির পাশাপাশি ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রেও গুগল বড় ধামাকা নিয়ে এসেছে। গুগল তাদের অত্যাধুনিক ভিডিও জেনারেশন মডেল 'ভিইও'কে জেমিনির সঙ্গে একীভূত করেছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা এখন টেক্সট থেকেই ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ বা সিনেমাটিক দৃশ্য তৈরি করতে পারছেন। ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রেও বিস্তারিত প্রম্পট অত্যন্ত জরুরি।
ভিডিও তৈরির সময় আপনাকে দৃশ্যপটের পাশাপাশি ক্যামেরার গতিবিধি উল্লেখ করতে হবে। যেমন "সূর্যোদয়ের সময় পাহাড়ের ওপর দিয়ে ড্রোন শট যাচ্ছে" অথবা "বৃষ্টির মধ্যে ব্যস্ত শহরের রাস্তায় টাইম-ল্যাপস ভিডিও"। আপনি ভিডিওর গতি নির্ধারণ করে দিতে পারেন, যেমন এটি স্লো-মোশন হবে নাকি ফাস্ট-পেসড। ক্যামেরা কি প্যান (Pan) করবে, নাকি জুম ইন হবে এসব টেকনিক্যাল বিষয় উল্লেখ করলে ভিডিওটি একেবারে পেশাদার মানের মনে হবে। যদি প্রথম প্রচেষ্টায় ভিডিওটি মনের মতো না হয়, তবে পুনরায় আবহাওয়ার পরিবর্তন বা ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল বদলানোর নির্দেশ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
গুগল জেমিনির এই মাল্টিমডাল সক্ষমতা প্রমাণ করে যে, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে সৃজনশীলতার কোনো সীমা থাকবে না। এটি যেমন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনোদনের উৎস, তেমনি পেশাদারদের জন্য সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের একটি বড় হাতিয়ার। তবে এই প্রযুক্তির সহজলভ্যতা যাতে অপব্যবহার বা 'ডিপফেক' (Deepfake) তৈরির কারণ না হয়, সেদিকে ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকা জরুরি। যন্ত্রের সক্ষমতা এবং মানুষের কল্পাশক্তির সঠিক মেলবন্ধনেই প্রযুক্তির প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।
মন্তব্য করুন

আইটি ডেস্ক








