ভিডিও শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৫:৫৪ বিকাল

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে প্রকল্পের কাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে প্রকল্পের কাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভয়াবহ অনিয়ম ও নিম্নমানের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কের কার্পেটিং কাজ চলমান থাকলেও, এরমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে হাতের স্পর্শেই উঠে যাচ্ছে পিচ। 
সরেজমিনে দেখা যায়, সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচের স্তর অত্যন্ত দুর্বল। সঠিকভাবে রোলার ও কম্প্যাকশন না করায় পিচ ভালোভাবে বসেনি। নির্ধারিত থিকনেস ও সংযোগ না থাকায় যে কোনো সময় পুরো সড়কই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আইআইডিবি (নগর উন্নয়ন) প্রকল্পের আওতায় ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এবং ৯নম্বর ওয়ার্ডের মোট ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস রুনা এন্টারপ্রাইজ। চারটি ভিন্ন প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে কাজ শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট ব্যবহার করেছে। অনেক জায়গায় সঠিকভাবে খোয়া না দিয়ে শুধু বালু ভরাট করে উপর দিয়ে খোয়া ছিটিয়ে লোক দেখানো দায়সারা কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ উঠলেও, প্রতিশ্রুতি দিয়েও কাজের মানে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হয়নি। তাদের আশঙ্কা, কয়েকদিন পর নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বিল তুলে ঠিকাদার ও সংশি¬ষ্টরা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে।

এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার সুনীল প্রথমে কিছু কাজ খারাপ হয়েছে বলে স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন। পিচ উঠে যাওয়ার দৃশ্য সামনে দেখানোর পরও তিনি বলেন, ৩ থেকে ৪ দিন সময় না দিলে পিচ উঠবেই।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, ঠিকাদার নজরুল ইসলাম নিজের ৪০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করলেও বাস্তব চিত্রের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে স্পিড ব্রেকার প্রসঙ্গ টেনে কথার মোড় ঘুরিয়ে দেন। কাজের অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে তিনি দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে সাংবাদিকদের হেয় করে কথা বলেন।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, একাধিকবার এই কাজ পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদারকে স্পষ্টভাবে বলেছি, কাজ খারাপ হলে বিল দেওয়া হবে না। পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারকে তদারকির নির্দেশ দিয়েছি। এরপরও কেন চলমান কাজেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঈদের দিনে বৃষ্টির পূর্বাভাস

জবি ছাত্রদল নেতা আশরাফুলের ঈদ সামগ্রী বিতরণ

৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেক দফায় কমলো স্বর্ণের দাম

ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান নাহিদ ইসলামের

ঈদযাত্রায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী