যেভাবে রাগকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাবেন
রাগ ধ্বংসাত্মক হতে পারে, তা আমরা জানি। এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কেও সবাই সচেতন। তারপরও রাগ এড়ানো সম্ভব নয়। তবে একে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে অন্যভাবেও বিবেচনা করা যায়। রাগ মানুষের স্বাভাবিক আবেগ। একে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। বরং সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে রাগ থেকেও উপকার পাওয়া যায়।
রাগের কারণ বুঝতে পারলে নিজের সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে এবং মানসিক স্থিরতা অর্জন করা সম্ভব। রাগকে ভেতরের দিকনির্দেশক হিসেবে ভাবতে পারেন। এটি কোনো সমস্যা বা অসন্তুষ্টির সংকেত দেয়। সেই সংকেত বুঝতে পারলে চিন্তা ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।
রাগের বিরুদ্ধে লড়াই না করে কেন রাগ হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য নিজের অনুভূতির মুখোমুখি হওয়া জরুরি। তবে রাগের সময় নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা কঠিন। মননশীলতা ও সহমর্মিতার চর্চা এ ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সহমর্মিতা মনের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। আর মননশীলতা সেই পরিবর্তনের একটি উপায়।
বিচার না করে মননশীলতার চর্চা
জন কাবাট-জিনের মতে, ‘সচেতনভাবে, বর্তমান মুহূর্তে এবং কোনো বিচার না করে মনোযোগ দেওয়াই মননশীলতা।’
রাগ সামলানোর কার্যকর উপায় হলো মননশীলতার চর্চা। বৌদ্ধ ভিক্ষু থিচ নাত হানের পরামর্শ, প্রতিদিন মননশীলতার মাধ্যমে নিজের রাগ, হতাশা ও ভয়কে সামলাতে হবে। অর্থাৎ, রাগকে অস্বীকার না করে সহমর্মিতার সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
মননশীলতা চর্চার অর্থ হলো কোনো কিছু ভালো বা খারাপ বলে বিচার না করে নিজের মন ও শরীরে কী ঘটছে, তা লক্ষ করা। এতে সব ধরনের অভিজ্ঞতাকে গ্রহণ করতে শেখা যায়।
রাগের সময় অস্বস্তি, ভয়, কষ্ট বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তখন আমরা আত্মরক্ষামূলক আচরণ করি এবং পরিস্থিতি বা অন্য ব্যক্তিকে বিচার করতে শুরু করি। এতে সাময়িকভাবে শক্তিশালী মনে হলেও রাগ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ করে ফেলে। ফলে পরিস্থিতির অন্য দিকগুলো বিবেচনা করা কঠিন হয়।
মননশীলতার চর্চা এসব পক্ষপাত ও ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নিজের চিন্তা, অনুভূতি ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়।
আরও পড়ুননিয়মিত চর্চা করলে রাগ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে রাগের বশে কষ্টদায়ক কথা বলা বা আক্রমণাত্মক আচরণ করার আগেই নিজেকে সামলে নেওয়া যায়। এতে পরিস্থিতি বুঝে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
সহমর্মিতা গড়ে তোলা
রাগ বদলাতে সহমর্মিতার চর্চা জরুরি। এর জন্য চিন্তাভাবনা ও আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে মানসিক সক্ষমতা ও অন্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
সহমর্মিতা হলো অন্যের অনুভূতি ও প্রয়োজন বোঝার পাশাপাশি তার কষ্ট কমানোর ইচ্ছা। এর মাধ্যমে ভয় ও অবিশ্বাসের দূরত্ব কমে। এমনকি যাকে একসময় প্রতিপক্ষ মনে হতো, তার সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হয়। নিজের প্রতি সহমর্মিতা থাকলে রাগ, ভয়, ঈর্ষা ও ক্ষোভের মতো কঠিন অনুভূতিও সামলানো সহজ হয়।
রাগের সময় মনে রাখা জরুরি, প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। কারও ভুল আচরণ দেখলে তাকে বিচার না করে কেন এমন করেছেন, তা বোঝার চেষ্টা করুন।
এভাবে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা তৈরি হলে সমালোচনার বদলে বোঝাপড়া, বিচ্ছিন্নতার বদলে ঐক্য এবং রাগের বদলে সহনশীলতা ও উদারতা বাড়ে।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে
মন্তব্য করুন

আইটি ডেস্ক







