প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৬:০৯ পিএম
টেকনাফে নিহত সেনাসদস্যের মরদেহ যাচ্ছে গ্রামের বাড়ি
টেকনাফে নিহত সেনাসদস্যের মরদেহ যাচ্ছে গ্রামের বাড়ি
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সেনাসদস্য মোহাম্মদ তিতাস শেখের (২৭) মরদেহ গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায় নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর আগে নগরকান্দার বারখাদিয়া এলাকার টুলু শেখের মেয়ের সঙ্গে তিতাস শেখের বিয়ে হয়। তবে তাদের কোনো সন্তান নেই।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানী বলেন, সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তার মরদেহ ফরিদপুরের নগরকান্দায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী গ্রামের দুর্গম পাহাড়ে যৌথ অভিযান শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশ অংশ নেয়।
গোয়েন্দা তথ্য ছিল, মানবপাচারের উদ্দেশ্যে শতাধিক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিককে অপহরণ করে পাহাড়ের গোপন আস্তানায় আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী অভিযান শুরু করলে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সৈনিক তিতাস শেখ।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অভিযানের সময় তিতাসের কাঁধে গুলি লাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযানে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার, ৫ জনকে আটক এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালেও পাহাড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকার কথা জানা গেছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান ঢাকা পোস্টকে জানান, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। মানবপাচারকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসী তৎপরতা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যুতে আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোকবার্তায় বলা হয়, দেশমাতৃকার সেবায় কর্তব্যরত অবস্থায় এই তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।
একই সঙ্গে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক





