পঞ্চগড়ে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় রিফাত বিন সাজ্জাদকে (২৪) মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক হুসেইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অপরাধের ভয়াবহতা ও নৃশংসতা বিবেচনা করে এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা।
আটোয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরশাদুল হক বাদি হয়ে দায়ের করা মামলার এজাহারে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ট্রেনযোগে পঞ্চগড়ে যাওয়ার পথে দিনাজপুর রেলস্টেশনে ওই তরুণীর সাথে পরিচয় হয় আসামি রিফাতের। পরে বিভিন্ন প্রলোভনে তাকে আটোয়ারীর কিসমতে নেমে রেলগেট এলাকার একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যান আসামি। সেখানে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রিফাত। পরে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে একটি ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণীর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ড গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ টেনেহিঁচড়ে রেললাইনের ওপর রেখে পালিয়ে যান আসামি। পরবর্তী সময়ে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণীর মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুনএদিকে একই বছরের ৮ মার্চ সকালে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ মোড় এলাকায় ইজিবাইক চুরির অপরাধে রিফাত বিন সাজ্জাদকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে থানা পুলিশ। পরে রিফাতের কাছে থাকা মোবাইলে কিছু অসামাজিক ভিডিও ও ছবি দেখতে পেয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে রেললাইনে উদ্ধার হওয়ায় তরুণীর সম্পৃক্ততা পায়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট খলিলুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতার আসামি রিফাত বিন সাজ্জাদ আটকের পর মোবাইলে পাওয়া তথ্যে পুলিশের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।
এদিকে আসামির পরক্ষে কোন আইনজীবী না থাকায়, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। মামলা চলাকালীন তার আইনজীবী চেষ্টা করেছেন তাকে বাঁচাতে। কিন্তু সকল তথ্য ও প্রমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এবং সাক্ষীরদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
মন্তব্য করুন







